সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৫:০৬ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ‘কালো পতাকা মিছিল’ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ জাতীয়করণের দাবি জোরালো

গত শনিবার, ১৮ অক্টোবর, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ‘কালো পতাকা মিছিল’ আয়োজন করেন। এই কর্মসূচি মূলত তাদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতা ও চিকিৎসা ভাতার পরিমাণে যথাযথ বৃদ্ধির দাবি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের দাবি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল ও বিক্ষোভ: জাতীয় শহীদ মিনার […]

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ‘কালো পতাকা মিছিল’ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ জাতীয়করণের দাবি জোরালো
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

গত শনিবার, ১৮ অক্টোবর, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ‘কালো পতাকা মিছিল’ আয়োজন করেন। এই কর্মসূচি মূলত তাদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতা ও চিকিৎসা ভাতার পরিমাণে যথাযথ বৃদ্ধির দাবি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের দাবি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিল ও বিক্ষোভ: জাতীয় শহীদ মিনার থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত

দুপুর সোয়া ১২টায় জাতীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি শহরের কেন্দ্রে ফিরে হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারার কাছে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে রূপ নেয়। শিক্ষক-কর্মচারীরা কালো পতাকা প্রদর্শন করে সরকারের কাছে তাদের দাবি পূরণের জোরালো আহ্বান জানান। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন মিছিলে যোগ দিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শহীদ মিনারে ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচিও চালিয়ে যাচ্ছেন, যা আন্দোলনের তীব্রতা এবং সংকল্পের পরিচায়ক।

আন্দোলনের মূল দাবি: বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার যথাযথ বৃদ্ধি

শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি করেন, তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হোক। বর্তমানে সরকারি শিক্ষা উপদেষ্টারা বাড়ি ভাড়া ভাতার মাত্র ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা প্রস্তাব করেছেন, যা তাদের মতে খুবই অপ্রতুল। এছাড়াও, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা এবং উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার দাবি জানানো হয়।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ: দীর্ঘদিনের দাবি

শিক্ষক-কর্মচারীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা। তারা মনে করেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এবং শিক্ষকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষায় জাতীয়করণ অপরিহার্য। এই দাবি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক সমাজের স্থায়িত্ব ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে।

আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপ ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি

আগামী রোববার ‘মার্চ টু যমুনা’ নামে একটি বড় কর্মসূচি পালিত হবে, যেখানে শিক্ষক-কর্মচারীরা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে তাদের দাবি পুনরায় জোরালো করবেন। ইতোমধ্যে তারা কর্মবিরতি, লংমার্চ এবং সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন, যা আন্দোলনের তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বৃদ্ধি করেছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই আন্দোলন শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের কল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাড়ি ভাড়া ভাতা ও চিকিৎসা ভাতার যথাযথ বৃদ্ধি তাদের কর্মজীবনের নিরাপত্তা ও মানসিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্থিতিশীল ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

সরকার যদি এই দাবিগুলো বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবনমানের উন্নতি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী অবহেলা শিক্ষকদের অধিকার লঙ্ঘন এবং শিক্ষার মান হ্রাসের দিকে ধাবিত করতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ