দীর্ঘ এক দশকের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেসকে নিজের প্রধান বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ সম্রাটদের প্রধান আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা বাকিংহাম প্যালেসের একটি ঐতিহাসিক ধারার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রাজপরিবারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, […]
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ এক দশকের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেসকে নিজের প্রধান বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ সম্রাটদের প্রধান আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা বাকিংহাম প্যালেসের একটি ঐতিহাসিক ধারার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
রাজপরিবারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা লন্ডনে অবস্থিত ক্লারেন্স হাউসেই বসবাস অব্যাহত রাখবেন। দীর্ঘদিন ধরেই ক্লারেন্স হাউস ছিল রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত আবাসস্থল এবং তিনি সেখানেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ফলে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে রাজা সেখানে বসবাস না করলেও বাকিংহাম প্যালেস ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবেই বহাল থাকবে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের অভ্যর্থনা, রাষ্ট্রীয় ভোজ, কূটনৈতিক অনুষ্ঠান, সম্মাননা প্রদান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় আয়োজন ভবিষ্যতেও এই প্রাসাদেই অনুষ্ঠিত হবে।
রাজকীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকিংহাম প্যালেস ভবিষ্যতেও ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রতীকী সদর দপ্তর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা হিসেবে তার মর্যাদা বজায় রাখবে।
এদিকে রাজপরিবার প্রথমবারের মতো রাজা চার্লসের কর প্রদানের তথ্যও প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি প্রায় ১২ দশমিক ৯ মিলিয়ন পাউন্ড কর পরিশোধ করেছেন। রাজপরিবারের আর্থিক কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের পর থেকে রাজা চার্লস কিংবা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেউই নিয়মিতভাবে বাকিংহাম প্যালেসে বসবাস করেননি। যদিও রাজা চার্লসের জন্য প্রাসাদে একটি ব্যক্তিগত কক্ষ সংরক্ষিত থাকবে, যা তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।
রাজপরিবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বাকিংহাম প্যালেস সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আরও বেশি সময় উন্মুক্ত রাখা হবে। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রাসাদের আরও কিছু অংশ জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকরা ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার সময় থেকে বাকিংহাম প্যালেস ব্রিটিশ সম্রাটদের প্রধান আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজা চার্লসের এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক ব্রিটিশ রাজতন্ত্রকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন।