মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা কমাতে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা আবার সচল করার লক্ষ্যেই ইসলামাবাদ এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটির দাবি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো কঠিন হয়ে রয়েছে, […]
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা কমাতে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা আবার সচল করার লক্ষ্যেই ইসলামাবাদ এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটির দাবি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো কঠিন হয়ে রয়েছে, কারণ দুই পক্ষই বারবার নিজেদের অবস্থান ও শর্ত পরিবর্তন করছে। তাদের ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের দিকে না গেলে সংকট আরও জটিল হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়িও জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করেননি তিনি।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, সংশোধিত প্রস্তাবে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু এবং সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ওপর। অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো পরবর্তী ধাপের আলোচনায় তোলার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
এদিকে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু বিষয়ে আগের তুলনায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের জব্দ থাকা বিদেশি সম্পদের একটি অংশ ছাড়ের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সীমিত শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের কোনো বিরোধ নেই এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য মূল হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক নীতি।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও বজায় রাখা হচ্ছে।
ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পর বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন এই প্রস্তাব আলোচনায় গতি আনতে পারে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বড় ধরনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা রয়ে গেছে।