সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৩:৪৪ পিএম, ২২ মে ২০২৬

কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শুক্রবার (২২ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিআর কঙ্গোর জন্য তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ স্তরে উন্নীত করেছে। তবে আঞ্চলিক ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির মাত্রা ‘কম’ রাখা […]

কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

শুক্রবার (২২ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডিআর কঙ্গোর জন্য তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নের মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ স্তরে উন্নীত করেছে। তবে আঞ্চলিক ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির মাত্রা ‘কম’ রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিটিকে গভীর উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ডিআর কঙ্গোয় এখন প্রায় ৭৫০ জন সন্দেহভাজন আক্রান্ত রয়েছেন এবং ১৭৭ জন সন্দেহভাজন রোগী মারা গেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তেদরোস বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পর্যন্ত ৮২ জন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি যে এই মহামারী আরও অনেক বড়।”

তিনি আরও জানান, ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন প্রতিটি ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা লোকদের শনাক্ত করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে উগান্ডার পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডিআর কঙ্গো থেকে যাওয়া দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের একজন মারা গেছেন। উগান্ডায় সংক্রমণ ঠেকাতে নিবিড় নজরদারি ও সংস্পর্শে আসাদের শনাক্তকরণের পাশাপাশি শহীদ দিবস উদযাপনও বাতিল করা হয়েছে।

ডিআর কঙ্গোয় কর্মরত এক মার্কিন নাগরিকের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া সংস্পর্শে আসা আরেক মার্কিন নাগরিককে চেক প্রজাতন্ত্রে নেওয়া হয়েছে।

ইবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা শরীরের তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকলের কারণ হতে পারে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এর আগে এই স্ট্রেইনের প্রাদুর্ভাব ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোয় দেখা গিয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সিলভি ব্রায়ান্ড জানান, সংস্থাটি সম্ভাব্য কার্যকর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য দুটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ‘ওবেলডিসিভির’ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সিলভি ব্রায়ান্ড বলেন, “এটি আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে। সংক্রমিত ব্যক্তিদের শরীরে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে এটি কার্যকর হতে পারে।”

তিনি আরও জানান, বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির বিষয়েও বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ