Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৫:২০ পিএম, ৮ মে ২০২৬

কমছে নিজস্ব মজুত, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কাছে প্রায় ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে অবহিত করলেও, একই দিনে […]

কমছে নিজস্ব মজুত, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কাছে প্রায় ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে অবহিত করলেও, একই দিনে অন্য কিছু জরুরি অস্ত্রচুক্তির মতো বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন মোট ২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন জরুরি চুক্তি প্রকাশ্যে জানানো হলেও বাকি অংশ ছিল আগের চুক্তিগুলোর সম্প্রসারিত রূপ।

জানা গেছে, নতুন এই প্যাকেজ মূলত পূর্বে অনুমোদিত তিনটি চুক্তির সম্প্রসারণ। এর মধ্যে বাহরাইনের জন্য ২০১৯ সালের এবং কুয়েত ও আমিরাতের জন্য ২০২৪ সালের চুক্তির ভিত্তিতে নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, কুয়েতের জন্য ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ৬ দশমিক ২৫ বিলিয়ন এবং বাহরাইনের জন্য ১ দশমিক ৬২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

এই প্যাকেজের বড় অংশজুড়ে রয়েছে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার ধরা হলে, তিন দেশের জন্য মোট প্রায় ৪ হাজার ২৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হতে পারে।

এদিকে কাতারও অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র অর্ডার দিয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ইউনিটের সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল অস্ত্র বিক্রি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ১ হাজার ৩০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোও নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও প্রায় ৬০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা সম্মিলিতভাবে কয়েক বছরের উৎপাদনের সমপরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প বছরে ৬০০টির কিছু বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে সক্ষম। যদিও ভবিষ্যতে উৎপাদন ২ হাজার ইউনিটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেই সক্ষমতা গড়ে তুলতে আরও সময় লাগবে।

পেন্টাগনের কিছু কর্মকর্তার আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি দুর্বল হতে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপ অঞ্চল থেকে অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা একাধিকবার ‘জরুরি পরিস্থিতি’ দেখিয়ে কংগ্রেসের স্বাভাবিক অনুমোদন প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি করছে।

এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতি ঢাকতেই প্রশাসন দ্রুত অস্ত্র বিক্রির পথ বেছে নিচ্ছে এবং এতে গণতান্ত্রিক তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একদিকে উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ালেও অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক মজুত, বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য এবং কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ