যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া মার্কিন গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। এ পরিস্থিতির জবাব দিতেই নতুন এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া মার্কিন গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। এ পরিস্থিতির জবাব দিতেই নতুন এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
নতুন শুল্কের আওতায় থাকবে কানাডা থেকে আমদানি হওয়া ওয়াইন, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন ভোক্তা পণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও মাছের মতো কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্যকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা অতিরিক্ত কর ও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানিতেও কানাডার কঠোর নীতির সমালোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নতুন শুল্ক আরোপের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডা বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) লঙ্ঘন করে ওয়াশিংটনের এই একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত নতুন করে বাণিজ্য আলোচনা জোরদার করতে প্রস্তুত।
কার্নি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ। একই সঙ্গে তিনি কানাডার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অতীতের কিছু বক্তব্য—যেখানে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন—সেই প্রেক্ষাপটেও কার্নির সাম্প্রতিক মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বহাল রেখেছে। এছাড়া সফটউড কাঠের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ প্রতিশোধমূলক শুল্ক কার্যকর করেছে।
সম্প্রতি কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল। তবে নতুন নির্বাহী আদেশে দাবানলের কোনো উল্লেখ করা হয়নি। বরং গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধকেই শুল্ক আরোপের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
গাড়ি শিল্পের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতার বাইরে থাকা মার্কিন গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা অতিরিক্ত কর আরোপ করে দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একইভাবে কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও কড়াকড়ি বজায় রয়েছে। এছাড়া দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রির ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।
কানাডার বাণিজ্য প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান শুল্ক কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমান ইউএসএমসিএ চুক্তি অপরিবর্তিত অবস্থায় নবায়নের পক্ষে তারা নয় এবং চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন এই শুল্ক কার্যকর হলে উত্তর আমেরিকার দুই বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্পখাত এবং ভোক্তা বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি