ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও মানব পাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। যদিও ২০১৫ সাল থেকেই বিষ্ণোই ভারতে কারাগারে বন্দি, তবুও মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ—কারাগার থেকেই তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনা করেছেন। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও মানব পাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। যদিও ২০১৫ সাল থেকেই বিষ্ণোই ভারতে কারাগারে বন্দি, তবুও মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ—কারাগার থেকেই তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনা করেছেন।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বিষ্ণোইয়ের সংগঠনকে ‘বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ (বিষ্ণোই ওসিজি)’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় ও প্রবাসী সমাজের প্রভাবশালী রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও লরেন্স বিষ্ণোই চোরাই মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা (ভিওআইপি) ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সহযোগীদের সরাসরি নির্দেশনা দিতেন।
মার্কিন তদন্তে উত্তর আমেরিকায় সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার এবং ইউরোপে রোহিত গোদারাকে বিষ্ণোইয়ের প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতে সংগঠনটির অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে সুখরাজ সিং কাংয়ের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজন ভাট্টি, ভুলওয়ান এবং সুমিত নামে আরও কয়েকজনকে এই অপরাধচক্রের সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সুরিতে খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রার এই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং চার সদস্যের একটি দল পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করে।
এছাড়া ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবের মানসায় জনপ্রিয় গায়ক ও রাজনীতিক সিধু মুসেওয়ালাকে হত্যার পেছনেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন মাধ্যমে এর দায় স্বীকারও করেছিল।
বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের হুমকির বিষয়টিও অভিযোগপত্রে স্থান পেয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিষ্ণোই একাধিকবার সালমান খানকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে অভিনেতার বাসভবনের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনাও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের বাসভবনে ২০২৩ সালের হামলার ঘটনাও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই হামলার দায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিল বিষ্ণোই গ্যাং। পরবর্তী সময়ে গ্রেওয়াল ও তার ম্যানেজারের কাছে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে মাদক পাচারকারী সুনীল যাদব হত্যাকাণ্ডেও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যার পর গোল্ডি ব্রার ও রোহিত গোদারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর দায় স্বীকার করে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বার্তা প্রকাশ করেছিলেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের এই অভিযোগগুলো আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান এবং আদালতের রায়ে অভিযোগগুলো এখনও প্রমাণিত হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি