দেশের ৫৫৯ জন সাবেক সেনাসদস্য, যাঁরা কুয়েতে কর্মরত ছিলেন, তাঁদের বকেয়া পেনশনের টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কুয়েত ফেরত সাবেক সেনাসদস্যদের দাবি ও পরিস্থিতি কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন ল্যান্স কর্পোরাল (অবঃ) মো. আমির হামজা, যেখানে বক্তব্য […]
দেশের ৫৫৯ জন সাবেক সেনাসদস্য, যাঁরা কুয়েতে কর্মরত ছিলেন, তাঁদের বকেয়া পেনশনের টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কুয়েত ফেরত সাবেক সেনাসদস্যদের দাবি ও পরিস্থিতি
কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন ল্যান্স কর্পোরাল (অবঃ) মো. আমির হামজা, যেখানে বক্তব্য রাখেন অবঃ ল্যান্স কর্পোরাল সানোয়ার হোসেন, অবঃ সৈনিক লাভলু মিয়া এবং ম্যাচ ওয়েটার মতিয়ার। তারা জানান, কুয়েত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় তারা কুয়েত সেনাবাহিনীর এসটিএমকে সেলে নিয়মিত কর্মরত ছিলেন।
কিন্তু ২০২০ সালে মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও সারা বিশ্বে লগডাউন পরিস্থিতির কারণে, কুয়েত সরকার তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল এবং বিমানবাহিনী কার্গো বিমানের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে তাঁদের পেনশন পাওয়ার অধিকার আটকে গেছে।
তারা আরও জানান, কুয়েতের এসটিএমকে সেলের দুই কর্মকর্তা তাঁদের জানিয়েছিলেন, কুয়েত আদালতের সত্যায়িত ফরমে প্রত্যেক কর্মীর জন্য নমিনি নির্ধারণ করলে পেনশন পরিশোধ করা হবে। কিন্তু পাঁচ বছর পার হওয়া সত্ত্বেও এখনও কোনো পেনশন টাকাই হাতে পাননি তাঁরা। এই অবস্থা তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
অবস্থানের মাধ্যমে সাবেক সেনাসদস্যরা সরকারের প্রতি তাদের দাবি স্পষ্ট করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, অবিলম্বে বকেয়া পেনশন পরিশোধ করা হোক, যাতে করে তাঁরা আর্থিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়াও, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।
এই বকেয়া পেনশনের টাকা পরিশোধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলে, কেবল সাবেক সেনাসদস্যরাই নয়, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও আর্থিক সংকটে পড়বেন। একাধিক পরিবার এই পেনশনের ওপর নির্ভরশীল, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। তাই এই দাবি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি এবং কুয়েত কর্তৃপক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে, যাতে করে দ্রুত এবং কার্যকর সমাধান বের করা যায়। এছাড়া, ভবিষ্যতে বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রেও কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা আরও প্রাধান্য পাচ্ছে।
যারা বিদেশে চাকরি করেন বা করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এই খবর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। বিদেশে চাকরি করার সময় চুক্তি, পেনশন, এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত শর্তাবলী ভালোভাবে বোঝা ও নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, সরকারের দায়িত্বও বেড়ে যাচ্ছে, যাতে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষিত থাকে।
সূত্র: জাতীয় প্রেসক্লাব, কুয়েত ফেরত সাবেক সেনাসদস্যদের বক্তব্য