অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি হঠাৎ বা আবেগপ্রসূত নয়—এটি বহুদিনের ভাবনার ফল। ঘনিষ্ঠজন ও সহকর্মীদের বক্তব্য মিলিয়ে যে কারণগুলো স্পষ্ট হয়, সেগুলো হলো— ১) সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার খোঁজ সিনেমার গানে সময়সীমা, প্রযোজকের চাহিদা ও বাণিজ্যিক চাপ থাকে। অরিজিতের লক্ষ্য এখন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সংগীত, যেখানে তিনি নিজে গাইবেন, অ্যারেঞ্জ করবেন, প্রডিউস করবেন—পূর্ণ স্বাধীনতায়। ২) “কম কাজ, […]
ছবি: সংগৃহীত
অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি হঠাৎ বা আবেগপ্রসূত নয়—এটি বহুদিনের ভাবনার ফল। ঘনিষ্ঠজন ও সহকর্মীদের বক্তব্য মিলিয়ে যে কারণগুলো স্পষ্ট হয়, সেগুলো হলো—
১) সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার খোঁজ
সিনেমার গানে সময়সীমা, প্রযোজকের চাহিদা ও বাণিজ্যিক চাপ থাকে। অরিজিতের লক্ষ্য এখন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সংগীত, যেখানে তিনি নিজে গাইবেন, অ্যারেঞ্জ করবেন, প্রডিউস করবেন—পূর্ণ স্বাধীনতায়।
২) “কম কাজ, গভীর কাজ” দর্শন
খ্যাতির শুরুর দিকেই তিনি বলেছিলেন, বছরে হাতে গোনা কিছু শো করবেন, কিন্তু নিজের মতো করে সংগীতচর্চা করবেন। প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই দর্শনেরই পরিণতি।
৩) খ্যাতির পেছনে না ছোটা
অরিজিৎ খ্যাতিকে নয়, সংগীতকে অগ্রাধিকার দেন। শিখরে থেকেই সরে আসার সাহস তাঁর সেই মানসিকতার প্রমাণ—তিনি বিশ্বাস করেন, ভালো কাজ করলে খ্যাতি আপনিই আসে।
৪) শিকড়ের টান ও বিকল্প সৃজনভূমি
মুম্বাইয়ের কেন্দ্রিকতা ছেড়ে জিয়াগঞ্জে স্টুডিও, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ—এসবই দেখায় তিনি নিজের সৃজনশীল বলয় নিজে গড়ে তুলতে চান।
৫) অবসর নয়, দিক পরিবর্তন
এটি সংগীত থেকে বিদায় নয়। সিনেমার গান থেকে সরে গিয়ে তিনি নতুন ফরম্যাট, নতুন ভাষা, নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে চান—কনসার্ট, স্বাধীন অ্যালবাম, পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট।
৬) কোনো রাগ বা রাজনীতি নয়
ঘনিষ্ঠদের মতে, সিদ্ধান্তটি রাগ, বিরোধ বা রাজনীতির কারণে নয়। বরং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সময় এখনই এসেছে—এই বিশ্বাস থেকেই পদক্ষেপ।
সারকথা:
অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক ছাড়ছেন কারণ তিনি খ্যাতির চেয়ে সৃষ্টির স্বাধীনতাকে বড় করে দেখেন। সিনেমার গানের সীমা ছাড়িয়ে সংগীতের বৃহত্তর দুনিয়ায় নিজস্ব পথে হাঁটাই তাঁর লক্ষ্য।