ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি অংশ নেন […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি অংশ নেন বাংলাদেশের স্পিকারও। শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে খামেনির মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি এবং ইরানের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্যে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সেখানে তাকে স্বাগত জানান ইরানের পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তেহরানে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন বাংলাদেশের স্পিকার।
বৈঠকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করছে।
স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বৈঠকে সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা বাস্তবায়নে ইরানের পার্লামেন্টের গঠনমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। তার মতে, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অঞ্চলটির বিদ্যমান সংকটগুলোর টেকসই সমাধান সম্ভব হবে এবং বাংলাদেশ সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই অবস্থান করবে।
দুই দেশের পার্লামেন্টারি সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৈঠকে ইরানের ডেপুটি স্পিকার, দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য এবং তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে বর্তমানে তেহরান ও মাশহাদে তার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।