খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা কাজীপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নামে এক বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম ওই এলাকার রতন গাজীর ছেলে এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি […]
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা কাজীপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম নামে এক বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলাম ওই এলাকার রতন গাজীর ছেলে এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি দোকানে বসে ছিলেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় হেলমেট পরিহিত এক যুবক মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে। কোনো ধরনের কথা না বলেই সে রফিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে।
গুলির একটি তার পেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলাকারী দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে লবণচরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলছে।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে পৌঁছে আশপাশের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।