২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৭ মাস পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের […]
ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৭ মাস পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচনসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ‘বাংলাদেশের জেন–জি ভোটারদের প্রত্যাশা: চাকরি, সুশাসন ও স্বাধীনতা’ শিরোনামে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় হলো কর্মসংস্থান, ভালো শাসনব্যবস্থা এবং ভয়ভীতি ছাড়াই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশটি এখন এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে।
রয়টার্স উল্লেখ করেছে, বৃহস্পতিবারের ভোটকে ২০০৯ সালের পর বাংলাদেশের প্রথম প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি; নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় তৈরি পোশাকসহ প্রধান শিল্প খাতগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট নির্বাচনী ফলাফল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য।
বার্তা সংস্থা এএফপি ‘গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে বাংলাদেশে বেশি ভোটারের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন আশা করছে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এই নির্বাচনে ব্যাপকসংখ্যক ভোটার অংশ নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আবুল ফজল মুহাম্মদ সানাউল্লাহ এএফপিকে বলেন, বর্তমানে ২০ ও ৩০-এর কোঠায় থাকা তরুণদের বড় একটি অংশ শেখ হাসিনার কঠোর শাসনামলে প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার তাঁরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা ভোটার উপস্থিতি বাড়াবে বলে কমিশনের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ‘বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের তরুণ ভোটারদের নানা দাবি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ ২০২৪ সালের সরকার পতনের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের বিশ্বাস, আসন্ন নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে। তরুণদের মধ্যে পরিবর্তন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ‘২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে নিরাপত্তা জোরদার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের শাসক শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ কারণে নিরাপত্তা নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
আল-জাজিরার তথ্যমতে, ভোট ঘিরে সারা দেশে এক লাখ ৫৭ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের সহায়তায় রয়েছে এক লাখ সেনাসদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। এই নির্বাচনে তালিকাভুক্ত ভোটারসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যতিক্রমী গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে একটি ইসলামপন্থী দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ডয়চে ভেলে আরও উল্লেখ করেছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর এই প্রথম ইসলামপন্থী শক্তিগুলো এত বড় পরিসরে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে প্রস্তুত। ফলে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে নতুন প্রত্যাশা ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ৫০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের প্রায় ৯০ শতাংশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন থাকা অনেক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করছেন, যাতে ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও নজরদারির আওতায় থাকে।