ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানি ঘিরে নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব এবার পড়েছে হিন্দু গরু খামারিদের ওপর। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসলিম ক্রেতারা গরু কেনা কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বহু খামারি। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু খামারিরাই মূলত গরু পালন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানি ঘিরে নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব এবার পড়েছে হিন্দু গরু খামারিদের ওপর। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মুসলিম ক্রেতারা গরু কেনা কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বহু খামারি।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু খামারিরাই মূলত গরু পালন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তারা বড় পরিসরে গরু বিক্রি করেন এবং সেই অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় খামারিদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় খামারিদের দাবি, এনজিও ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তারা সারা বছর গরু লালন-পালন করেছেন। কিন্তু কোরবানি ঘিরে প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে বাজারে ক্রেতা কমে গেছে।
বামুনিয়া গ্রামের কয়েকজন খামারি জানান, গরু বিক্রি বন্ধ থাকলে তাদের ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা চান, অন্তত ঈদ উপলক্ষে গরু বিক্রির সুযোগ দেওয়া হোক।
অন্যদিকে মুসলিম খামারিরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, যদি কোরবানি বন্ধই রাখতে হয়, তাহলে সরকার যেন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে বা গবাদিপশু কিনে নেয়।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাঙড়ের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিক অভিযোগ করেন, মুসলমানদের চাপে ফেলতে গিয়ে সরকার উল্টো হিন্দু খামারিদেরই বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজ তকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে গরু কোরবানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় হিন্দু নারী-পুরুষ। বিক্ষোভকারীরা বলেন, গরু বিক্রি বন্ধ থাকলে বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে যাবে।
তবে বিজেপির মুখপাত্র বিমল শঙ্কর নন্দ দাবি করেছেন, বিষয়টিকে ঘিরে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। তার মতে, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে এই পরিস্থিতি এখন পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতি ও ক্ষুদ্র খামারিদের জীবিকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।