Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
১০:২৭ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজায় ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন

গাজা সিটিতে ইসরাইলি ট্যাঙ্ক মোতায়েন ও একযোগে ইন্টারনেট–ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নতুন করে বড় ধরনের স্থল অভিযানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজা সিটির দুটি এলাকায় ট্যাঙ্ক মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই এলাকাগুলো মূল শহরকেন্দ্রে প্রবেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, ইসরাইলি বাহিনী […]

গাজায় ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

গাজা সিটিতে ইসরাইলি ট্যাঙ্ক মোতায়েন ও একযোগে ইন্টারনেট–ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নতুন করে বড় ধরনের স্থল অভিযানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজা সিটির দুটি এলাকায় ট্যাঙ্ক মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই এলাকাগুলো মূল শহরকেন্দ্রে প্রবেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, ইসরাইলি বাহিনী ইতোমধ্যে শহরের পূর্ব প্রান্তের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং গত কয়েকদিন ধরে শেখ রাদওয়ান ও তেল আল-হাওয়া এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করছে। এসব এলাকা থেকে সহজেই শহরের মধ্য ও পশ্চিমাংশে প্রবেশ সম্ভব, যেখানে অধিকাংশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

শহরের এক বাসিন্দা ইসমাইল বলেন, ‘ইন্টারনেট ও ফোন সেবার বিচ্ছিন্ন হওয়া সর্বদাই খারাপ সংকেত। সাধারণত এর মানে হলো, খুব ভয়াবহ কিছু ঘটতে চলেছে।’ তিনি ই-সিম ব্যবহার করে যোগাযোগ করছিলেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সংকেত পেতে হলে তাকে উঁচু স্থানে যেতে হয়।

তিনি আরও জানান, ‘চারপাশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। অনেকে তাঁবুতে কিংবা ভগ্নপ্রায় বাড়িতে জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে আছেন। অনেকেই চলে যাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না, আবার অনেকে যেতে চান না।’

প্রধান নেটওয়ার্ক টার্গেট: টেলিকম কোম্পানি

প্যালেস্টাইনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারাদিনে গাজা জুড়ে ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও গুলিতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নয়জন গাজা সিটির বাসিন্দা।

প্যালেস্টাইন টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চলমান আগ্রাসন এবং প্রধান নেটওয়ার্ক লাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।’

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনারা সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা গাজা সিটিতে অভিযান বিস্তৃত করছে। তাদের ভাষায়, ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস’ ও ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল’ করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। তবে টেলিকম সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা ট্যাঙ্ক মোতায়েন নিয়ে সেনারা কিছু উল্লেখ করেনি। সেনারা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুস ও রাফাহতেও তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবিক সংকট

১০ আগস্ট ইসরাইল গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে শত শত মানুষ শহর ছেড়ে পালিয়েছে। তবে এর চেয়েও বেশি মানুষ থেকে গেছেন—ভগ্নপ্রায় ঘরবাড়িতে বা অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়ে।

ইসরাইলি সেনারা বারবার লিফলেট ফেলে বাসিন্দাদের দক্ষিণে নির্ধারিত ‘মানবিক অঞ্চল’–এ যেতে বলছে। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ, আশ্রয় ও জায়গার চরম অভাব।

ইসরাইল বলছে, তারা হামাসের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে এবং গাজায় এখনও আটক থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে এই অভিযান চালাচ্ছে। তবে টানা দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর এই নতুন অভিযান আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা কুড়িয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ