সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৭:২৭ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গাজায় ইসরাইলি হামলায় বাষ্পে পরিণত ২৮৪২ ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। আলজাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভয়াবহ শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ফলে বহু মানুষ সম্পূর্ণভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, যাদের কোনো দেহাবশেষও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনীর ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র বিস্ফোরণের সময় কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি করছে। এর ফলে আশপাশের […]

গাজায় ইসরাইলি হামলায় বাষ্পে পরিণত ২৮৪২ ফিলিস্তিনি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। আলজাজিরার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভয়াবহ শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ফলে বহু মানুষ সম্পূর্ণভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, যাদের কোনো দেহাবশেষও পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনীর ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র বিস্ফোরণের সময় কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সৃষ্টি করছে। এর ফলে আশপাশের সবকিছু মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মানুষের দেহের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট থাকছে না।

২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ভোরে গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে চালানো এক বিমান হামলার ঘটনায় এমনই এক হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে আসে। ওই হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজের ছেলের সন্ধানে ঘুরে বেড়ান ইয়াসমিন মাহানি। তিনি জানান, বহু চেষ্টা করেও ছেলের কোনো দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের কাছে এটি ছিল অপূরণীয় ক্ষতি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, গাজার সিভিল ডিফেন্স টিম ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে, যাদের ক্ষেত্রে কোনো পূর্ণ দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, হামলার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ও সেখানে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যসংখ্যার তুলনা করেই নিখোঁজের হিসাব করা হয়। কোনো ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সংখ্যার সঙ্গে উদ্ধারকৃত মরদেহের মিল না থাকলে এবং তল্লাশির পরও উল্লেখযোগ্য কোনো চিহ্ন না পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ তাপীয় ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অস্ত্র বিস্ফোরণের সময় প্রচণ্ড তাপ ও চাপ সৃষ্টি করে, যা আশপাশের পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় চলমান এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ