সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৫:৪৫ পিএম, ৭ জুলাই ২০২৬

গাজায় বাস্তুচ্যুতদের দুর্ভোগ চরমে, ঘুমন্ত শিশুদের কামড়াচ্ছে ইঁদুর

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজা উপত্যকায় স্বস্তি ফেরেনি। ইসরাইলি হামলা, অব্যাহত বাস্তুচ্যুতি আর ভাঙা অবকাঠামোর মধ্যে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আশ্রয়শিবিরে এখন ইঁদুরের উপদ্রব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাতে ঘুমন্ত শিশুদেরও কামড়াচ্ছে এসব প্রাণী। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ধ্বংসস্তূপ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ত্রাণ সংকটকে ঘিরে। অবরুদ্ধ এই […]

গাজায় বাস্তুচ্যুতদের দুর্ভোগ চরমে, ঘুমন্ত শিশুদের কামড়াচ্ছে ইঁদুর

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজা উপত্যকায় স্বস্তি ফেরেনি। ইসরাইলি হামলা, অব্যাহত বাস্তুচ্যুতি আর ভাঙা অবকাঠামোর মধ্যে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আশ্রয়শিবিরে এখন ইঁদুরের উপদ্রব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাতে ঘুমন্ত শিশুদেরও কামড়াচ্ছে এসব প্রাণী।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ধ্বংসস্তূপ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ত্রাণ সংকটকে ঘিরে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় এখনো হাজার হাজার মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ অল্প জায়গার তাঁবুতে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

মঙ্গলবারও ইসরাইলি হামলায় গাজায় একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও স্থলপরিস্থিতিতে কোনো শান্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯ লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে বাস্তুচ্যুত। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংকীর্ণ ও বায়ু চলাচলহীন অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে চারপাশে জমে থাকা ময়লা ও নোংরা পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ।

গাজা সিটি এখন প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। এমন ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ আশ্রয়শিবিরে চর্মরোগ, সংক্রমণ এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। মশা, মাছি, নেকড়ে ও ইঁদুরের উপদ্রবও চরম আকার ধারণ করেছে।

‘মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস’–এর জরুরি বিভাগের প্রধান স্যালি সালেহ জানান, বড় আকারের ইঁদুরগুলো এখন সরাসরি মানুষের ওপর আক্রমণ করছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমন্ত শিশু, নবজাতক এবং প্রতিবন্ধী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। অনেক বাবা-মা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা ইঁদুরের কামড়ে আহত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইঁদুরগুলো শুধু মানুষের জন্যই নয়, ত্রাণসামগ্রীরও ক্ষতি করছে। খাবারের বস্তা কেটে চাল-ডাল নষ্ট করে দিচ্ছে তারা। এতে ত্রাণ বিতরণেও বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।

দীর্ঘ দুই বছরের বোমা হামলা ও অবরোধের পর গত বছরের ১১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দুই পর্বের একটি চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রিকরণ এবং গাজার শাসনভার নতুন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি বা আন্তর্জাতিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও এসবের কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।

তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় মৃত্যুর মিছিল থামেনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪২৯ জনের বেশি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চুক্তি সইয়ের পর থেকে গাজায় গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। গত জুন মাসে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইল গাজায় শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে কার্যত গণহত্যা চালাচ্ছে। তবে ইসরাইল সেই প্রতিবেদনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ