সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:৩৩ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২৬

গাজায় ১০ টাকার লাইটার ৫ হাজার, পুরোনো ফ্যানের দাম ৫০ হাজার

গাজায় যুদ্ধ ও পণ্য সরবরাহে বিধিনিষেধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ পণ্যও এখন মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। যে লাইটারের দাম স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ১০ টাকার মতো, সেটিই সেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকায়। একটি লাইটারের দাম এখন ১২০ শেকেল বা প্রায় ৪০ ডলার। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে লাইটার মানুষের জন্য বিলাসপণ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে পরিণত […]

গাজায় ১০ টাকার লাইটার ৫ হাজার, পুরোনো ফ্যানের দাম ৫০ হাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

গাজায় যুদ্ধ ও পণ্য সরবরাহে বিধিনিষেধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ পণ্যও এখন মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। যে লাইটারের দাম স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ১০ টাকার মতো, সেটিই সেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকায়। একটি লাইটারের দাম এখন ১২০ শেকেল বা প্রায় ৪০ ডলার।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে লাইটার মানুষের জন্য বিলাসপণ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে। রান্নার গ্যাসের সংকট থাকায় অনেক পরিবার কাঠ, কাগজ বা অন্যান্য জ্বালানি পুড়িয়ে রান্না করছে। ফলে আগুন জ্বালানোর জন্য লাইটারের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

এদিকে তীব্র গরমে গাজার তাবুগুলোতে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন বৈদ্যুতিক ফ্যান বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। পুরোনো কিংবা ভাঙাচোরা একটি ফ্যানের দামও প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ফ্যানের সংকটে অনেক পরিবারকে বিকল্প উপায়ে শিশুদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে। মোহাম্মদ আবু এল এনালাইনের মতো বাবারা কাগজের টুকরো দিয়ে সন্তানদের বাতাস করছেন কিংবা শরীরে পানি ছিটিয়ে তাদের কিছুটা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কারিগরদের ভাষ্য, গত প্রায় তিন বছর ধরে গাজায় ফ্যানের নতুন মোটর ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে নষ্ট ফ্যান মেরামত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফ্যান মেরামতের কারিগর মোহাম্মদ আবু আলওয়ান জানান, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পুরোনো ফ্যান খুঁজে বের করে সেগুলো মেরামত করে কোনোভাবে সচল করার চেষ্টা করছেন। পুরোনো যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা এসব ফ্যানই এখন অনেক পরিবারের ভরসা।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় খাদ্য ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে স্থানীয় বাজারে পণ্যের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর প্রভাব শুধু খাদ্য বা ওষুধের মতো জরুরি পণ্যে নয়, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত লাইটার ও ফ্যানের মতো সাধারণ সামগ্রীর বাজারেও পড়েছে।

ফলে গাজায় যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ একটি লাইটার বা পুরোনো ফ্যান কেনাও অনেক পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ