সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১১:৫৮ এএম, ১১ আগস্ট ২০২৬

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একের পর এক এলাকা থেকে ধ্বংসযজ্ঞের খবর আসছে। ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি […]

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একের পর এক এলাকা থেকে ধ্বংসযজ্ঞের খবর আসছে। ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। উদ্ধারকারী দলগুলো ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছাকাছি এলাকায় ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল।

ভূমিকম্পের কম্পন কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। বিশেষ করে দেশের কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং আশপাশের শহরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।

পেরেইরায় অন্তত ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। শহরটির মহানগর এলাকায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, পেরেইরার প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়ার পর পুরো এলাকা ধ্বংসাবশেষ ও ধুলায় ঢেকে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। মানিজালেসে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শহরটির বিভিন্ন ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দেয়াল থেকে ইট ও প্লাস্টার খসে পড়েছে।

চোকো প্রদেশের রাজধানী কুইবদোসহ মেডেলিন, চোকো এবং ভায়ে দেল কাওকা অঞ্চলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী বোগোটাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। সেখানে গাছপালা ও ট্রাফিক সিগন্যাল দুলতে দেখা গেলেও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের প্রভাবে কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরার বিমানবন্দরগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি ও সেবা বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

দুর্যোগের পর প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেন। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। প্রেসিডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দেশজুড়ে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখন মূল অগ্রাধিকার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা। উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চলছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ‘কোপার্নিকাস’ স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে কলম্বিয়াকে সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের হিসাবে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ভূমিকম্পটির শক্তিশালী প্রভাব অনুভব করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূ-পৃষ্ঠের অনেক গভীরে হওয়ায় সাধারণ পরিস্থিতিতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার কথা। কিন্তু ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনের কারণে দুর্বল অবকাঠামো ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা থাকায় মৃতের সংখ্যা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ