আন্তর্জাতিক উত্তেজনা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা এড়াতেই ইসলামাবাদ এই তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (১২ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র […]
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক উত্তেজনা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া ধরে রাখা এবং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা এড়াতেই ইসলামাবাদ এই তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখাকে ইসলামাবাদ গুরুত্ব দিচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল এবং প্রণালী-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ (এমওইউ) বাস্তবায়নের বিষয়েও কাজ চলছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১০ আগস্ট পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান, সৌদি আরব ও কুয়েতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করছেন। তাঁর সফরও পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একই সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান।
এ লক্ষ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইসলামাবাদের এই বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।