কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা আটকে থাকা ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরায় একটি ভবন ধসে পড়ার পর চারটি ভারী কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকা পড়েছিলেন দানিয়েলা লার্গো। প্রায় ১০ ঘণ্টার টানা উদ্ধার অভিযানের পর বুধবার দমকলকর্মীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম […]
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা আটকে থাকা ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরায় একটি ভবন ধসে পড়ার পর চারটি ভারী কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকা পড়েছিলেন দানিয়েলা লার্গো।
প্রায় ১০ ঘণ্টার টানা উদ্ধার অভিযানের পর বুধবার দমকলকর্মীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারের পর নীল চাদরে মোড়ানো অবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, লার্গোর কাছে পৌঁছাতে প্রথমে ধ্বংসস্তূপের ওপর থেকে একটি সুড়ঙ্গ খনন করা হয়। ওই পথ দিয়ে তার কাছে অক্সিজেন পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে নিচের দিক থেকেও আরেকটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।
লার্গোর মা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, স্থানীয় এক বাসিন্দা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ছোট একটি ক্যামেরার সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে লার্গোর অবস্থান শনাক্ত করেন।
উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় দমকলকর্মীদের পাশাপাশি রাজধানী বোগোটা থেকে আসা দমকলকর্মী এবং জাতীয় পুলিশের দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরাও যোগ দেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা লার্গোকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘটনাটিকে ‘আশায় ভরিয়ে দেওয়া খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
লার্গোর মা বলেন, বাড়িতে তার ১২ বছর বয়সী ছেলে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
সরকারি হিসাবে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকশ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের শহর পেরেইরায় অন্তত ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৯৫ জন মারা গেছেন কালি শহরে। দেশটির রাজধানী শহরগুলোর সংগঠন অ্যাসোকাপিতালেসের তথ্য অনুযায়ী, পেরেইরায় অন্তত ৯২টি ভবন ধসে পড়েছে। সেখানে ১৫ জন ধ্বংসস্তূপে আটকা এবং আরও ৩৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে কালিতেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরটিতে ২০০ জনের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপে আটকা ছিলেন। এর মধ্যে ৮৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ নিরাপদ রাখতে কালি শহরের মেয়র রাতের কারফিউ জারি করেছেন। পাশাপাশি সেনা সদস্যদের টহলে নামানো হয়েছে। মেয়র জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশা এখনো রয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। তবে এর শক্তিশালী কম্পন দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পটি প্রায় ৯০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট স্থায়ী হয়। এরপর থেকে ১০০টিরও বেশি আফটারশক বা পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
উদ্ধারকাজ এখনো ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ জীবিত আটকে থাকতে পারেন—এমন আশায় উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি