গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। নিহত শিশুদের মরদেহ দেখে তিনি আবেগ সামলাতে না পেরে সাংবাদিকদের বলেন, বাচ্চাগুলোকে দেখে তার খুব কষ্ট লেগেছে। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য তিনি আগে কখনও দেখেননি। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন […]
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। নিহত শিশুদের মরদেহ দেখে তিনি আবেগ সামলাতে না পেরে সাংবাদিকদের বলেন, বাচ্চাগুলোকে দেখে তার খুব কষ্ট লেগেছে। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য তিনি আগে কখনও দেখেননি।
শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি অবগত আছেন এবং তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও উপস্থিত রয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে প্রতিবেশীদের চিৎকারে বিষয়টি প্রকাশ পেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতরা হলেন ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
পেশায় প্রাইভেটকারচালক ফুরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। স্বজনদের দাবি, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফুরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে তিন শিশু কন্যার মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং রসুল মিয়ার মরদেহ ছিল বিছানার ওপর।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়র বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পাশ থেকে কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া গেছে। সেগুলোতে ফুরকানের পক্ষ থেকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবং পরকীয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ ছিল।
কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র ও অন্যান্য আলামত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান পলাতক রয়েছেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা ঘটনাস্থলে যায়। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।