ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) দীর্ঘ আট বছর গুম অবস্থায় থাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রার্থনা করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি এ আবেদন জানান। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি […]
ছবি: সংগৃহীত
ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) দীর্ঘ আট বছর গুম অবস্থায় থাকার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রার্থনা করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি এ আবেদন জানান। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এদিনও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন তিনি।
জবানবন্দি শেষ হলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জেরার জন্য আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সাক্ষ্যে ব্রিগেডিয়ার আযমী বলেন, অপহরণকারীদের একজনকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং যে কক্ষে তাকে আটক রাখা হয়েছিল সেটিও তার পরিচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সেলের দক্ষিণে ঢাকা স্টেশন অফিসার্স মেস-বি অবস্থিত, যা অপহরণের পরদিন ভোরে ভেন্টিলেটর দিয়ে দেখেই তিনি নিশ্চিত হন। পরে সেখানে থাকা অন্যদের কাছ থেকেও তিনি জানতে পারেন, সেটিই ডিজিএফআইয়ের গোপন আটককেন্দ্র, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেনাপ্রধান তার সঙ্গে হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেন এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাহিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেনাপ্রধান নিশ্চিত করেন যে, ডিজিএফআই-ই তাকে অপহরণ করেছিল। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৎকালীন কর্মরত তিনজন জেনারেলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বাকি দুজন আগেই অবসর নিয়েছিলেন।
জেআইসি বা আয়নাঘর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আযমী বলেন, আটককেন্দ্রটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। যেসব কক্ষে ভেন্টিলেটর ছিল না, সেখানে দেয়াল ভেঙে ভেন্টিলেটর বসানো হয়েছে। জানালাগুলো কালো রঙ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং ছোট কক্ষগুলোর দেয়াল ভেঙে বড় করে দেখানো হয়েছে। লোহার গ্রিলের দরজার বদলে কাঠের দরজা লাগানো হয়েছে, যাতে প্রকৃত অবস্থা আড়াল করা যায়।
বিচার প্রার্থনা করে তিনি বলেন, অবৈধভাবে অপহরণ করে তাকে আট বছর মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করা হয়েছে। অপহরণের তিন বছর পর তার অসুস্থ বিধবা মা মারা যান, যাঁর দেখাশোনা তিনি করতেন। তার স্ত্রী ও সন্তানদেরও দীর্ঘ সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, এ মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে ব্রিগেডিয়ার আযমী তার সাক্ষ্য সম্পন্ন করেছেন, যদিও জেরা এখনো বাকি। জবানবন্দিতে অপহরণ, আটকে রাখা, নির্যাতন ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে আটক ও বন্দি রাখার ঘটনাটি গুম, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
উল্লেখ্য, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। তিনজন গ্রেপ্তার থাকলেও বাকিরা পলাতক রয়েছেন।