সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৪:১৫ পিএম, ১ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি খোঁজার কাগজ দেওয়া হবে না: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তরুণদের চাকরি খোঁজার জন্য কোনো কাগজ বা ডিপ্লোমা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘থ্রি জিরো’ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে কিছুদিন পর ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর লক্ষ্য হবে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে […]

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি খোঁজার কাগজ দেওয়া হবে না: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তরুণদের চাকরি খোঁজার জন্য কোনো কাগজ বা ডিপ্লোমা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘থ্রি জিরো’ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে কিছুদিন পর ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর লক্ষ্য হবে তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যাটফর্ম ‘জিপে’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘থ্রি জিরো’র মধ্যে রয়েছে জিরো নেট কার্বন এমিশন, জিরো ওয়েলথ কনসেন্ট্রেশন ও জিরো আনএমপ্লয়মেন্ট। গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলমন্ত্র হবে—‘আমরা উদ্যোক্তা, চাকরির প্রার্থী নই; চাকরির স্রষ্টা’।

ড. ইউনূস বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই নতুন ব্যবসা গড়ে তুলবে। পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে।

গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর দিনের স্মৃতি

অনুষ্ঠানে গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়ের কথা স্মরণ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ব্যাংকটির পুরোনো দিনের অনেক স্মৃতি এখনো তার মনে রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় যেতেন এবং কর্মী ও সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতেন।

তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু থেকেই প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তখন অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটর চালিয়ে কম্পিউটার স্থাপন করে তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও তখন খুব সীমিত ছিল। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না, এমনকি পুলিশ স্টেশনও ছিল না। এক শাখার সঙ্গে অন্য শাখার যোগাযোগেও নানা সমস্যা হতো। এ কারণে বিভিন্ন উপায়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

ড. ইউনূস বলেন, সেই সময়ের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন।

গ্রামীণফোনের শুরুর দিনের কথা

গ্রামীণফোনের শুরুর সময়ের কথাও স্মরণ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, গ্রামীণফোনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ছিল উচ্চপর্যায়ের। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এবং গ্রামের একজন গ্রামীণ ব্যাংকের নারী একসঙ্গে কথা বলেছিলেন।

তার মতে, এটি ছিল টেলিফোনের শক্তি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি অনন্য আয়োজন।

ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণফোনের একটি লক্ষ্য ছিল গ্রামের দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো। বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের হাতে ফোন তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, গ্রামের একজন নারী ফোন দিয়ে কী করবেন, এমনকি তিনি নম্বরই চেনেন না।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে সংখ্যা মাত্র ১০টি। এগুলো শেখা সম্ভব। এই ১০টি সংখ্যা চেনার মাধ্যমে যদি আয় করা যায়, তাহলে সেগুলো শিখতে ১০ মিনিটও সময় লাগবে না।

এরপর গ্রামের দরিদ্র নারীদের হাতে ফোন তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ফোনের সংযোগ তৈরি হয় এবং ফোন পাওয়া নারীরা ধীরে ধীরে এর মাধ্যমে আয় করতে শুরু করেন।

ড. ইউনূস বলেন, শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই কোম্পানি লাভজনক হবে না। কিন্তু দরিদ্র মানুষের হাতে শুরু হওয়া সেই কোম্পানি পরে অত্যন্ত সফল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। গ্রামীণফোনকে কেন্দ্র করে আরও অনেক কোম্পানি শহরের বাইরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কার্যক্রম গড়ে তোলে।

‘জিপে মানুষের ভয় থেকে মুক্তি দেবে’

ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যাটফর্ম ‘জিপে’ সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, এর লক্ষ্য হলো মানুষকে ভয় থেকে মুক্তি দেওয়া। এখন আর হাতে টাকা বহন করতে হবে না। নোট ও কাগজ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তাও থাকবে না।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে পারলেই সাফল্য আসবে। জিপে-এর মাধ্যমে সেটিই করার চেষ্টা চলছে।

ড. ইউনূস বলেন, বড়লোকদের জন্য অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু গরিব মানুষের জন্য সেভাবে ব্যবস্থা নেই। তাই স্বল্প আয়ের মানুষের কাছেও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা পৌঁছে দিতে হবে।

গ্রামীণ আমেরিকার সাফল্য

গ্রামীণ আমেরিকার কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করা গ্রামীণ আমেরিকা এখন প্রতিবছর তাদের সদস্যদের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ পরিশোধের হার ৯৯ শতাংশ।

গ্রামীণ আমেরিকার কাছ থেকে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

‘গ্রামীণের সব ব্যবসাই সামাজিক ব্যবসা’

গ্রামীণের সব ব্যবসাই সামাজিক ব্যবসা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, সামাজিক ব্যবসা হলো এমন একটি ব্যবসা, যেখানে মালিক ব্যক্তিগতভাবে কোনো মুনাফা বা লভ্যাংশ নেন না। এর মূল উদ্দেশ্য সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা।

তিনি বলেন, ‘জিপে’ও একটি সামাজিক ব্যবসা। এখান থেকে যে মুনাফা হবে, তা কোনো ব্যক্তি নেবেন না। বরং কোম্পানি সেই অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে।

ড. ইউনূস বলেন, গ্রামীণ সামাজিক ব্যবসা করে বলেই এর এতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। একটি ব্যবসার মুনাফা ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে তা দিয়ে নতুন সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে।

তরুণদের প্রযুক্তিগত আগ্রহ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প আয়ের মানুষ যাতে নিজেদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

গ্রামীণফোনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এর লভ্যাংশ থেকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে এক পয়সাও নেন না। সেই উদ্বৃত্ত মুনাফা দিয়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

‘জিপেতেই সমাধান’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান এবং জিপে-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আহমদ আরমান সিদ্দিকী।

পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের চার নারী ঋণগ্রহীতার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘টাকা পে’ কার্ড তুলে দেন।

সূত্র: আমার দেশ

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ