সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৪:৩৮ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছয় মাসে হারানো পাসপোর্টের আবেদন ১ লাখ ৭ হাজার, নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ছয় মাসে হারানো পাসপোর্টের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে ১ লাখ ৭ হাজার ৩০০টি আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ১৭ হাজার ৮৮৫টি এবং দিনে প্রায় ৬০০টি পাসপোর্ট হারানোর আবেদন করা হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব আবেদনের পেছনে শুধু পাসপোর্ট […]

ছয় মাসে হারানো পাসপোর্টের আবেদন ১ লাখ ৭ হাজার, নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ছয় মাসে হারানো পাসপোর্টের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে ১ লাখ ৭ হাজার ৩০০টি আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ১৭ হাজার ৮৮৫টি এবং দিনে প্রায় ৬০০টি পাসপোর্ট হারানোর আবেদন করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব আবেদনের পেছনে শুধু পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নেই। তদন্ত ও পর্যালোচনায় তিন ধরনের পরিস্থিতি বেশি সামনে এসেছে—ভিসা করানোর জন্য এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দিয়ে তা ফেরত না পাওয়া, বিদেশে গিয়ে নিয়োগকারী বা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট আটকে থাকা এবং অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পর নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা।

পাসপোর্ট হারানোর আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অধিদপ্তরের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন পাসপোর্টের আবেদনের পাশাপাশি হারানো পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে হারানো পাসপোর্টের অপব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

‘হারানো’ পাসপোর্টের নেপথ্যে কী

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশ যাওয়ার আগে অনেকেই ভিসা বা নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করতে বিভিন্ন এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এজেন্সি ভিসা করাতে ব্যর্থ হলেও নানা অজুহাতে পাসপোর্ট ফেরত দিতে দেরি করে। একপর্যায়ে পাসপোর্ট হাতে না পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে সেটি হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন।

বিদেশে যাওয়ার পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। কাজের জন্য কোনো এজেন্সি বা নিয়োগকর্তার কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর অনেকে সেটি আর ফেরত পান না। পরে অন্য কোথাও কাজের সুযোগ তৈরি হলে পাসপোর্ট হাতে না থাকায় দূতাবাসে হারানোর কথা জানিয়ে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।

এ ছাড়া অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া কিছু ব্যক্তি নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা পুরোনো পাসপোর্ট হারিয়েছে বলে দাবি করেন। কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পাসপোর্ট নষ্ট করেও পুনঃইস্যুর আবেদন করেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দ্বিতীয়বার হারালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘটনা কমাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো বা নষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নিয়মিত ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়মে পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হওয়ার পর অবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুলিশের প্রতিবেদন না এলে জিডির কপি দিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। কোনো ভিসা এজেন্সি, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে পাসপোর্ট আটকে রাখলে এবং সেটি উদ্ধার করা সম্ভব না হলে আগের পাসপোর্ট বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) হালনাগাদ করা হবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকেও তথ্য জানানো হবে।

বিদেশে পাসপোর্ট হারালে

বিদেশে থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

পুনঃইস্যু করা পাসপোর্টের ডাটাপেজে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার সময় আবেদনকারীর নাম, বাবা-মায়ের নাম ও জন্মতারিখের মতো মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না।

একবার বাতিল করা পাসপোর্ট পরে উদ্ধার হলেও সেটি আর পুনরায় সক্রিয় বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা থানাকে জানিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করতে হবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিপুলসংখ্যক হারানো পাসপোর্টের আবেদন শুধু প্রশাসনিক চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং ভ্রমণ নথির অপব্যবহার ও মানবপাচারের মতো অপরাধের ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই পাসপোর্টধারীদের নথিটি নিরাপদে রাখার পাশাপাশি হারানো বা চুরি হলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ