ঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থানরত নিম্নচাপটি বর্তমানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ হিসেবে রূপ ধারণের পথে রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্র ১১.০° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। এটি বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা […]
ঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থানরত নিম্নচাপটি বর্তমানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ হিসেবে রূপ ধারণের পথে রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্র ১১.০° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। এটি বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বর্তমানে নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
নিম্নচাপের ভৌগোলিক অবস্থান ও গতিপথ
রোববার সকাল ৬টায় এই গভীর নিম্নচাপ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ১২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা থেকে ১৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা থেকে ১২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এর অগ্রগতি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অব্যাহত রয়েছে এবং আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে।
‘মন্থা’ নামের অর্থ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব
যদি নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে এটি ‘মন্থা’ নামধারী হবে, যা থাইল্যান্ড থেকে প্রাপ্ত নাম এবং স্থানীয় ভাষায় ‘সুগন্ধি ফুল’ বা ‘সুন্দর ফুল’ অর্থে পরিচিত। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ‘মন্থা’ ঘূর্ণিঝড়টি ‘সিভিয়ার সাইক্লোন’ হিসেবে বিকাশ লাভ করতে পারে। তবে বাংলাদেশের উপকূলে এর সরাসরি প্রভাব কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, এই নিম্নচাপ রোববার সন্ধ্যার দিকে ঘূর্ণিঝড় পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর পর এটি ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাংলাদেশের জন্য এটি তেমন বিপজ্জনক না হলেও, ভারতীয় উপকূলীয় এলাকা সতর্ক থাকতে হবে।
সামুদ্রিক এলাকায় সতর্কতা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলের কাছাকাছি অবস্থানরত জাহাজ ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র সম্ভাব্য বিকাশ ও অগ্রগতির খবর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে, যা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। উপরন্তু, ভারতে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব উপকূলীয় জনপদগুলোর জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। তাই যারা উপকূলবর্তী এলাকায় বাস করেন বা এই অঞ্চলে সমুদ্রভ্রমণ বা মাছ ধরা করেন, তাদের জন্য আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক।
বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি দ্রুত ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’তে রূপান্তরিত হতে পারে। যদিও বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবু উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত আপডেট ও নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপত্তার অন্যতম হাতিয়ার।