চাঁদপুর সদরে গণপিটুনিতে নিহত চিত্রনায়ক শান্ত খান ও তাঁর বাবা সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ। সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল […]
চাঁদপুর সদরে গণপিটুনিতে নিহত চিত্রনায়ক শান্ত খান ও তাঁর বাবা সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ।
সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। পাশাপাশি শাপলা মিডিয়া নামের একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং ভয়েস টেলিভিশন নামের আইপি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মালিক ছিলেন।
তাঁর বড় ছেলে শান্ত খান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির সদস্য ছিলেন। ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’সহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এলাকা ছাড়ার সময় সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজার এলাকায় জনরোষের মুখে পড়েন। সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারলেও পরে বাগড়া বাজার এলাকায় আবারও জনতার মুখোমুখি হন তাঁরা। সেখানে গণপিটুনিতে দুজনই নিহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাঁদের মরদেহ চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই সময়ের পরিস্থিতির কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। তখন স্বজনদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাঁদের মৃত্যুর ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
সম্প্রতি চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মরদেহ দুটি কবর থেকে তুলে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। মরদেহ উত্তোলনের সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতির জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে করা আবেদন জেলা প্রশাসক অনুমোদন করেছেন। তবে ঠিক কবে মরদেহ দুটি কবর থেকে উত্তোলন করা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
সেলিম খানের বিরুদ্ধে পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাও চলমান ছিল বলে জানা গেছে।
প্রথম আলোতেও সেলিম খানের বিরুদ্ধে পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনসংক্রান্ত অভিযোগ এবং এ বিষয়ে সরকারি অর্থ আদায়ের উদ্যোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের পর দুইজনের মৃত্যুর পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয় তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।