সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:০৩ পিএম, ১৩ মে ২০২৬

চীন কি ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত বন্ধে চীন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকে ইরান ইস্যু অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পরিস্থিতি […]

চীন কি ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত বন্ধে চীন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকে ইরান ইস্যু অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পরিস্থিতি শান্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের ওপর বাড়তি চাপ দিচ্ছে। কারণ কয়েক দশক ধরে ইরান ও চীনের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি চীনই বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই জানান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে বেইজিং সহায়তা করতে প্রস্তুত। এতে বোঝা যায়, সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেওয়ার আগে চীন কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চায় না। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সরাসরি চীনের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির আগেই ধীর প্রবৃদ্ধি, শিল্পখাতে চাপ এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির মতো সমস্যার মুখে ছিল চীনের অর্থনীতি। এখন যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে।

চীন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। এটিকে অনেকেই বেইজিংয়ের “সীমিত মধ্যস্থতা কৌশল” হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, তারা সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখতে চাইলেও সরাসরি সামরিক বা রাজনৈতিক জোটে জড়াতে চাইছে না।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চীন মূলত তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে—

মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা,
জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখা,
এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ইরানের ওপর চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব হিসেবে কাজ করবে। কারণ তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী এবং বাইরের চাপ সহজে মেনে নেওয়ার নজির কম।

সূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ