দেখতে একেবারে সাধারণ কলমের মতো। কিন্তু ভেতরে লুকানো আছে প্রাণঘাতী ফায়ারিং মেকানিজম। কাগজে লেখার বদলে কাছাকাছি দূরত্বে গুলি ছোড়ার জন্য ব্যবহৃত এই ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্রের নাম ‘পেনগান’। রাজধানীতে প্রথমবারের মতো এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গত সোমবার কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার […]
ছবি: সংগৃহীত
দেখতে একেবারে সাধারণ কলমের মতো। কিন্তু ভেতরে লুকানো আছে প্রাণঘাতী ফায়ারিং মেকানিজম। কাগজে লেখার বদলে কাছাকাছি দূরত্বে গুলি ছোড়ার জন্য ব্যবহৃত এই ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্রের নাম ‘পেনগান’। রাজধানীতে প্রথমবারের মতো এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গত সোমবার কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করে। একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সায়মন ও সোহেল ওরফে কাল্লু নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ছোট আকার ও সাধারণ কলমের মতো গড়নের কারণে এই অস্ত্র সহজেই শরীর, পকেট বা ব্যাগে লুকিয়ে বহন করা যায়। তল্লাশির সময়ও এটি অনেক ক্ষেত্রে চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। ঠিক এই কারণেই অস্ত্রটি নিরাপত্তা সংস্থার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় যুবদল নেতা রাসেলের ওপর গুলির ঘটনায় এই পেনগান ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই হামলায় রাসেলের বুকের বাম পাশে গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ডিবির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নূরে আলম বলেন, রাসেলের ওপর হামলার মামলার সূত্র ধরে ছায়া তদন্ত চালানো হচ্ছিল। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে এই বিশেষ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, অস্ত্রটি কীভাবে দেশে এসেছে, কারা এর সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে আরও কোনো চক্র জড়িত আছে কি না—এসব বিষয় এখন গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানী বা দেশের অন্য কোথাও এর ব্যবহার হয়েছে কি না, তাও তদন্তে দেখা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন জানিয়েছেন, পেনগানটি তারা প্রায় ৮০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করেছিলেন। তবে কার কাছ থেকে এটি কেনা হয়েছে এবং এর মূল উৎস কোথায়, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে এর আগে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের কোনো নজির নেই। উদ্ধার হওয়া পেনগানের গায়ে কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম, সিরিয়াল নম্বর বা শনাক্তযোগ্য চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে এর উৎপত্তিস্থল নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রটি সীমান্তপথে ভারত বা পাকিস্তান থেকে দেশে প্রবেশ করে থাকতে পারে। অতীতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কিছু তথ্য মিলেছিল বলেও তিনি জানান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত বছর খুলনার একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক আসামির কাছ থেকেও রিমান্ডে পেনগান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে তখন বিষয়টি বড় পরিসরে সামনে আসেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ছদ্মবেশী এই আগ্নেয়াস্ত্রের সহজ বহনযোগ্যতা এবং তল্লাশিতে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা অপরাধীদের জন্য এটিকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। সে কারণে এর উৎস শনাক্ত ও সরবরাহ চক্র ভাঙাকে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।