চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে দেশে অন্তত ৮৬টি শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৩৬ শিশু। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’ তাদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে […]
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে দেশে অন্তত ৮৬টি শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৩৬ শিশু। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’ তাদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে এবং তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় অর্ধেকের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে শিশুদের নিজ বাড়ি বা আত্মীয়স্বজনের বাসায়। বাকি ঘটনাগুলোর বড় অংশ সংঘটিত হয়েছে রাস্তা, বাজার, মাঠ কিংবা জলাশয়ের মতো জনসমাগমস্থলে।
অপরাধীদের পরিচয় বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। বহু ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন শিশুর বাবা-মা, নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী বা পরিবারের পরিচিত ব্যক্তি। অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশু পরিচিত মানুষের হাতেই সহিংসতার শিকার হয়েছে।
হত্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ, রাগ এবং বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্বের বিষয় উঠে এসেছে। ৮৬টি ঘটনার মধ্যে ৪৪টিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও অধিকাংশ মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩১২টি পৃথক ঘটনায় মোট ৩৩৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২৭ জন মেয়ে, ২৪ জন ছেলে এবং ১৮৫ জনের লিঙ্গ পরিচয় সংবাদে উল্লেখ ছিল না।
বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে সাত থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা। এই বয়সের ১৭৫ জন শিশুর ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী ৯০ শিশুও এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়েছে।
নির্যাতনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯১টি ঘটনা ছিল ধর্ষণ, ৭৫টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৪৪টি একাধিকবার যৌন নির্যাতন এবং ২৬টি দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। এসব ঘটনার পর দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে, ১১ জন গর্ভধারণ করেছে এবং ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্তত ১৬ জন বাক, বুদ্ধি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুও ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
সংগঠনটির আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার এখন জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় শিশু কমিশন গঠন, শিশু আইন-২০১৩ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।