সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

নারী ও শিশু
৬:১২ পিএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সেপ্টেম্বরে সারা দেশে নির্যাতনের শিকার ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সারা দেশে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন ৫২৭ জন। শনিবার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন নারী ও […]

সেপ্টেম্বরে সারা দেশে নির্যাতনের শিকার ২৩৬ নারী ও কন্যাশিশু

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সারা দেশে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন ৫২৭ জন।

শনিবার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন নারী ও কন্যাশিশু। তাদের মধ্যে ৪৭ জন, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরী। এ সময়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে পাঁচজনকে।

এ ছাড়া মাসজুড়ে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় ৭৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় মারা গেছেন আরও ৪৩ জন নারী।

রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৪, আহত ৫২৭

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সংঘাতের ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহত ও ৫২৭ জন আহত হয়েছেন। আগস্টে ৭০টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় সাতজন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছিলেন। সে হিসাবে সেপ্টেম্বরে সংঘাত ও প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল অব্যাহত ছিল।

শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই সেপ্টেম্বরে ৩৫টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬১ জন। বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৪২ জন এবং নিহত হয়েছেন একজন। জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে তিনজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে ১৬ জন, বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে সাতটি ঘটনায় ১৫ জন এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।

নিহত চারজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুজন, বিএনপির একজন এবং জামায়াতের একজন রয়েছেন।

হামলা, গ্রেপ্তার ও মব সহিংসতা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরে ৬৩টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

যৌথ ও বিশেষ অভিযানে ২৮৭টি ঘটনায় অন্তত ২১ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার মধ্যে সেপ্টেম্বরে মব সহিংসতার ৩৫টি ঘটনায় নয়জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন কারাগারে ২১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত ও নির্যাতনে মারা গেছেন তিনজন।

পরিত্যক্ত স্থান এবং নদী-খাল থেকে ৬৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে বাধা, মব সহিংসতা এবং কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ