ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আবাসন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় দুই দশক আগে ভর্তি হওয়া কয়েকজনসহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৩৬ জন নেতাকর্মীকে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ হলে সিট দেওয়া হয়েছে। এতে করে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা না পেয়ে চরম […]
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আবাসন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় দুই দশক আগে ভর্তি হওয়া কয়েকজনসহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৩৬ জন নেতাকর্মীকে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ হলে সিট দেওয়া হয়েছে। এতে করে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, স্পষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় সিট বণ্টন করা হয়েছে। তাদের মতে, ২০০৮-০৯ থেকে শুরু করে ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীরাও এই বরাদ্দের তালিকায় রয়েছেন, যা আবাসন সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ডাকসু ও হল সংসদের নেতাকর্মীরা।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ প্রশাসনকে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, দ্রুত সিট সমস্যার সমাধান না হলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনে যেতে বাধ্য হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন আবারও হলে ‘গণরুম’ ও ‘আদুভাই’ সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা করছে।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে দ্রুত সিট বরাদ্দের সার্কুলার প্রকাশ, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘প্রবীণ’ শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংশ্লিষ্ট ৩৬ জনকে ‘অতি বিশেষ বিবেচনায়’ সিট দেওয়া হয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, নীতিমালা অনুসরণ করেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না এবং রাজনৈতিক প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ আবাসিক নয়, তাই সবার জন্য একসঙ্গে আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, বিষয়টি প্রভোস্ট মিটিংয়ে আলোচনা করে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টা করা হবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ঢাবির আবাসন সংকট ও সিট বণ্টন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ আরও বাড়ছে।