যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। তাই সামরিক হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও তেহরান তাদের কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে মনে করেন লন্ডনভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলফিরাজ শিয়ার্স। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিয়ার্স বলেন, ইরান ইতোমধ্যে দেখিয়েছে যে তারা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার মানসিক প্রস্তুতি রাখে। […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা। তাই সামরিক হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও তেহরান তাদের কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে মনে করেন লন্ডনভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অ্যালেক্স আলফিরাজ শিয়ার্স।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিয়ার্স বলেন, ইরান ইতোমধ্যে দেখিয়েছে যে তারা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার মানসিক প্রস্তুতি রাখে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাবে, ততই ইরান নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে বিষয়টিকে দেখবে এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ থেকে সরে আসবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রথম অগ্রাধিকার রাষ্ট্রীয় টিকে থাকা। দ্বিতীয় লক্ষ্য যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং তৃতীয় লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা।
শিয়ার্সের মতে, এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীর ওপর প্রভাব ধরে রাখা ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই নৌপথ তেহরানের সবচেয়ে কার্যকর দরকষাকষির হাতিয়ার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি এখনো ইরানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে শিয়ার্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একজন দক্ষ আলোচক হিসেবে তুলে ধরেন। তাই আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে সফল হয়েছে এবং যুদ্ধটি অর্থবহ ছিল—এমন বার্তা ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা তার জন্য সহজ হবে না বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: আল জাজিরা