সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
২:০৪ পিএম, ৭ আগস্ট ২০২৬

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে বিধিনিষেধ, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতেও ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে ভিসা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে দুটি পৃথক নির্বাহী আদেশ জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এবার নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে […]

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে বিধিনিষেধ, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতেও ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ আরও সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে ভিসা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে দুটি পৃথক নির্বাহী আদেশ জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এবার নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, বাবা-মা দুজনই মার্কিন নাগরিক না হলে এবং তাদের মধ্যে কেউ বিদেশি সরকারের কর্মকর্তা, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, অথবা নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন—এমন পরিস্থিতিতে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এমন কিছু মার্কিন ভূখণ্ডের বিষয়ও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফেডারেল আইনের অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি নেই।

হোয়াইট হাউসে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের পরিবর্তন অনেক আগেই করা উচিত ছিল। একই সঙ্গে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে তার আগের উদ্যোগে আদালতের হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি।

‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে ভিসায় কড়াকড়ি

ট্রাম্পের দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশের লক্ষ্য তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’। এর মাধ্যমে এমন বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে ভিসা ব্যবস্থায় কঠোরতা আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা মূলত সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু বিদেশি নাগরিক পর্যটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে সন্তান জন্ম দেন এবং সেই সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেয়।

হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-বিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দাবি করেছেন, বিদ্যমান অভিবাসন আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস আইনবিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল চিন মনে করেন, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের কিছু বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা থাকতে পারে। কিন্তু নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার পরিবর্তন করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রধান সাংবিধানিক ভিত্তি দেশটির সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর Citizenship Clause। ১৮৬৮ সালে কার্যকর হওয়া এই বিধানের অধীনে সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিকে জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ তাই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগেও ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্দেশ্যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ দ্রুত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্তে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

নতুন আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন অধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের যুক্তি, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব বিধান পরিবর্তন করা যায় না।

‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর প্রকৃত পরিসর কত?

‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি এর প্রকৃত পরিসর নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর জন্ম নেওয়া মোট শিশুর মধ্যে আনুমানিক ২২ হাজার থেকে ২৬ হাজার শিশুর জন্ম ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অর্থাৎ মোট জন্মের তুলনায় এই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

অন্যদিকে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানাসম্পন্ন মায়েদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার ৬০০।

তাই ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে সরকারের নতুন পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং এর মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতিতে কতটা পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে—তা নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সামনে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন দুটি নির্বাহী আদেশ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে নতুন করে মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ পরিবর্তন করা সম্ভব কি না, সেটিই হতে পারে আসন্ন আইনি লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ