সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১২:১২ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২৬

জাপানে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, প্রাণ গেল ৮ জনের; আশ্রয়ে লাখো মানুষ

জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী টোকিওর পাশের চিবা প্রিফেকচার। পরিস্থিতির অবনতিতে সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে লাখো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা […]

জাপানে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, প্রাণ গেল ৮ জনের; আশ্রয়ে লাখো মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

জাপানের পূর্বাঞ্চলে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী টোকিওর পাশের চিবা প্রিফেকচার। পরিস্থিতির অবনতিতে সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে লাখো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে চিবা প্রিফেকচারের বহু সড়ক পানিতে ডুবে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়।

বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় চিবার এক-তৃতীয়াংশের বেশি পৌর এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘লেভেল ৫’ জারি করে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি। শুক্রবার সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সতর্কতা কমিয়ে আনা হলেও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।

গত মে মাসে নতুন দুর্যোগ-সংক্রান্ত আবহাওয়া তথ্যসেবা চালুর পর বৃষ্টি ও ভূমিধসের জন্য এটিই প্রথম লেভেল ৫ সতর্কতা জারির ঘটনা।

অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত চিবা

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এর ফলেই অস্বাভাবিক মাত্রায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

চিবা ও আশপাশের এলাকায় আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থা।

চিবার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে বহু দুর্যোগ মোকাবিলা করলেও এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তার হয়নি। মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

চার লাখের বেশি মানুষকে সরার নির্দেশ

প্রবল বৃষ্টির একপর্যায়ে চার লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিবা, ইবারাকি, সাইতামা ও গুনমা প্রিফেকচারে দুই শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বাড়ি ফিরতে না পারা যাত্রীদের জন্য চিবা প্রিফেকচারাল সরকারি ভবনও খুলে দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নেন।

বৃষ্টির কারণে টোকিওর কাছের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। প্রায় সাত হাজার মানুষ বিমানবন্দরেই রাত কাটান। যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেকে বাড়ি ফিরতে পারেননি। শুক্রবার ফ্লাইট পরিচালনা স্বাভাবিক রাখার কথা জানানো হলেও কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাপান এয়ারলাইনস।

বন্যায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু

চিবার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ইচিকাওয়ায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাকুরায় পানিতে আটকে পড়া গাড়ির ভেতর ৬৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

ইয়াচিওয়ায় বন্যাকবলিত সড়ক থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কাশিওয়ায় গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে ৭০-এর কোঠায় থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া সড়কে পড়ে গিয়ে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত আটজনে পৌঁছেছে।

ট্রেন ও মহাসড়ক যোগাযোগ বন্ধ

অতিবৃষ্টিতে চিবা ও টোকিওর বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জেআর ইস্ট জানিয়েছে, শুক্রবার কেইয়ো, কুরুরি ও উচিবো লাইনসহ কয়েকটি রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কিছু এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চিবার চুও ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র এক ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সাকুরায় তিন ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার, যা ওই এলাকার সর্বোচ্চ রেকর্ড। কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হাজারো বাড়ি

ভারি বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি হোল্ডিংসের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে চিবা প্রিফেকচারের প্রায় ৪৫ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থার এই বিপর্যয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

বাড়ি ফিরতে না পারা মানুষদের পরিবহনে সহায়তার জন্য চিবা প্রিফেকচার সরকার জাপানের সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সের সহায়তা চেয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিপাইন ও চীনেও দুর্যোগ পরিস্থিতি

একই সময়ে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কায় বেশির ভাগ এলাকায় স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাপান, ফিলিপাইন ও চীনের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ঝড় আঘাত হানায় পুরো অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আঘাত হানা ডলফিন ঝড়ের প্রভাবে কয়েক হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরে ঝড়টি চীনের পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে গেলে দেশটির কর্তৃপক্ষ ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ