জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় বুধবার রাতে ফুঁসে ওঠেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিল করেন তারা। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশে এক ব্যক্তি তার গলায় কাপড় পেঁচিয়ে নির্জন […]
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় বুধবার রাতে ফুঁসে ওঠেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিল করেন তারা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশে এক ব্যক্তি তার গলায় কাপড় পেঁচিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় পথচারীরা বিষয়টি টের পেয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী, প্রক্টর ও জাকসু নেতার উপস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তকে বহিরাগত হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
বুধবার রাত ১০টার দিকে বটতলা এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি টারজান এলাকায় গিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের মিছিলে যুক্ত হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে টারজান এলাকা থেকে সহস্রাধিক নারী শিক্ষার্থী মশাল মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ছাত্রীদের ১০টি আবাসিক হলের সামনে দিয়ে ঘুরে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—
“ধর্ষকের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে”,
“ক্যাম্পাসে ধর্ষণ করে, প্রক্টর কী করে?”,
“জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো”,
“আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই”।
মিছিল শেষে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে,
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমকে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে,
প্রক্টরিয়াল বডিকেও ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে,
নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর কুইক রেসপন্স টিম গঠন করতে হবে এবং
ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়ে তাদের ওই টিমে যুক্ত করতে হবে।