সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৬:০২ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হেনস্তায় তিন সাংবাদিকের বাধাগ্রস্ত সংবাদ সংগ্রহ, বিচারকের কারাগারে পাঠানোর হুমকি

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহকালে জামায়াতপন্থী কয়েকজন আইনজীবীর দ্বারা তিন জন সাংবাদিককে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই তিন সাংবাদিককে আদালতে উপস্থিত করে বিচারক হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন। পরে সাংবাদিকরা ক্ষমা চাওয়ার শর্তে মুক্তি পায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিআরইউ) প্রতিবাদ জানিয়েছে। […]

জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হেনস্তায় তিন সাংবাদিকের বাধাগ্রস্ত সংবাদ সংগ্রহ, বিচারকের কারাগারে পাঠানোর হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহকালে জামায়াতপন্থী কয়েকজন আইনজীবীর দ্বারা তিন জন সাংবাদিককে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই তিন সাংবাদিককে আদালতে উপস্থিত করে বিচারক হাসিব উল্লাহ পিয়াস তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন। পরে সাংবাদিকরা ক্ষমা চাওয়ার শর্তে মুক্তি পায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিআরইউ) প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি এবং বিস্তারিত

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ফারদিনের বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরা এবং তার বাবা নুর উদ্দিন রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামী বুশরা আদালত থেকে বের হওয়ার সময়, সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠের প্রতিবেদক মাসুদ রানা, একুশে টিভির রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম।

তবে জামায়াতপন্থী আইনজীবী রেজাউল হক রিয়াজ, হাতিরঝিল থানার জামায়াতের রোকন, আইনজীবী আক্তারুজ্জামান ডালিমসহ অনেকে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা প্রদান করেন। সাংবাদিকরা পেশাগত কারণে ভিডিও করার অনুমতি চাইলেও তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পরে সাংবাদিকদের বিচারকের কাছে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বিচারকের আচরণ ও সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া

জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের চাপের মুখে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস ওই তিন সাংবাদিককে আদালতে ডেকে তাদের পরিচয় জানতে চান এবং অভিযোগ করেন যে তারা আদালতের সামনে হাঙ্গামা সৃষ্টি করেছে। বিচারকের নির্দেশে তাদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পান।

সাংবাদিক মাসুদ রানা জানান, “আমরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু আইনজীবীরা ভিডিও নিতে বাধা দেয় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বিচারকের কাছে আমাদের বাধ্য করা হয়।”

অন্যদিকে, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ না করেও বিচারকের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছি। এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিবাদ ও দাবি

ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লিটন মাহমুদ বলেন, “সাংবাদিকরা কেবলমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের ওপর এই ধরনের হেনস্থা এবং বিচারকের অতিউৎসাহী আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে এই বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করব এবং বিচারকের অপসারণসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”

বিশ্লেষণ ও প্রাসঙ্গিকতা

এই ঘটনা বাংলাদেশে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি একটি গুরুতর সংকেত। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া এবং তাদের ওপর হুমকি-ধমকি সাংবাদিকতার মূল্যবোধ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে। পাশাপাশি, বিচারকের এমন আচরণ বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রতি আস্থা কমিয়ে আনে। দেশের গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার রক্ষায় এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমের কার্যকারিতা ও জনগণের তথ্য অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ