উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা ২০২৬ সালের একুশে পদক-এ ভূষিত হতে যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। এ ঘোষণার পর থেকেই দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের অভিনন্দন ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। একুশে পদকপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে ববিতা বলেন,‘মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া যে […]
ছবি - সংগৃহীত
উপমহাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা ২০২৬ সালের একুশে পদক-এ ভূষিত হতে যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। এ ঘোষণার পর থেকেই দেশ-বিদেশে থাকা অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের অভিনন্দন ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
একুশে পদকপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে ববিতা বলেন,
‘মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া যে তিনি আমাকে সুস্থ ও ভালো রেখেছেন। জীবদ্দশায় একুশে পদকের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। আমি রাষ্ট্রের প্রতি এবং যারা আমাকে এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত করেছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন,
‘আমার সব ভক্ত ও দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। অভিনয়ে থাকি কিংবা না থাকি—তাঁরাই সবসময় আমার খোঁজ নিয়েছেন, সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিও কৃতজ্ঞ, কারণ অভিনয় জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তাঁরা সবসময় আমার পাশে ছিলেন।’
চলচ্চিত্রে ববিতার পথচলা শুরু হয়েছিল প্রয়াত নির্মাতা শহীদ জহির রায়হানের হাত ধরে। সেই স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি বলেন,
‘আমার একুশে পদকপ্রাপ্তি আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ জহির রায়হানকে উৎসর্গ করছি।’
১৯৭৫ সালে ‘নয়নমনি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী নির্বাচিত হন ববিতা। পরবর্তীতে ‘বসুন্ধরা’, ‘বাদী থেকে বেগম’, ‘রামের সুমতি’, ‘হাছন রাজা’, ‘কে আপন কে পর’ এবং ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় ও প্রযোজনার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
২০১৬ সালে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা। অস্কারজয়ী নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন গৌরবের সঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে ২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ আগস্ট ‘ববিতা ডে’ হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে ববিতা বলেন,
‘গল্প ও চরিত্র ভালো লাগলে তবেই আবার অভিনয় করব। না হলে আর পর্দায় ফেরা হবে না।’
প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ববিতা মুভিজ’ থেকে নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘ফুলশয্যা’, ‘আগমন’, ‘লটারি’, ‘চণ্ডীদাস ও রজকিনী’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’ ও ‘লেডি স্মাগলার’।
নায়ক রাজ রাজ্জাক, জাভেদ, ওয়াসীম, ফারুক, সোহেল রানা ও জাফর ইকবালসহ বহু জনপ্রিয় নায়কের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক সমৃদ্ধ ও গৌরবময় চলচ্চিত্র জীবন।