সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
১:৩৭ পিএম, ৬ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি হেলে পড়ায় জেলার চারটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান-কেরানীহাট […]

টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি হেলে পড়ায় জেলার চারটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের রেইচা এলাকায় হোটেল গ্রীনপিকের কাছে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি হেলে পড়ে। এর ফলে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটিটি হেলে পড়ে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়াতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।

বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকৌশলী ও কারিগরি দল ঘটনাস্থলে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

এদিকে একই দিন জেলা প্রশাসনের জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা এবং সড়ক যোগাযোগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষকে ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাতায়াত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে বান্দরবানে অবস্থানরত অনেক পর্যটককে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে না আসেন, সে আহ্বানও জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলা। কয়েকটি সড়কে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে লামা মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে ইতোমধ্যে মাইকিং করা হচ্ছে।

সূত্র: আমার দেশ

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ