ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণীকে সরাসরি ব্যঙ্গ করেছে তেহরান। ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রশাসনের ভুল নীতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণীকে সরাসরি ব্যঙ্গ করেছে তেহরান। ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রশাসনের ভুল নীতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এরই মধ্যে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গালিবাফের ধারণা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে তা ১৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৫১ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে গালিবাফ লিখেন, ট্রাম্পের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ইরানের কোনো তেলকূপ এখনো বিস্ফোরিত হয়নি। তাঁর ভাষায়, একটি কূপও ফাটেনি। চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারও করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অবরোধের তত্ত্ব দেখিয়ে যারা তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে তুলেছেন, এখন তারা সেটিকে ১৪০ ডলারে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, সমস্যাটা কোনো তত্ত্বে নয়, মূল সমস্যা তাদের মানসিকতা ও ভুল সিদ্ধান্তে।
মূলত গত ২৬ এপ্রিল ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, তিন দিনের মধ্যে ইরানের তেলকূপগুলো এক বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরিত হতে শুরু করবে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর গালিবাফের এই উপহাসমূলক মন্তব্য সামনে আসে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। ইরানের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই অবরোধ আরোপ করলেও বাস্তবে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকেই অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের তিন দিনের ‘বিস্ফোরণ’ ভবিষ্যদ্বাণী এখন তেহরানের কড়া বিদ্রূপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।