সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আইন ও বিচার
৬:১৩ অপরাহ্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাতনি বলে পরিচয়, পরে বিয়ে; ন্যাম ভবনের বারান্দায়ও ঘুমাতেন মরিয়ম

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য আদালতে তুলে ধরেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, নজরুল ইসলাম প্রথমে মরিয়মকে নাতনি হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে তাকে বিয়ে করেন। এমনকি ন্যাম ভবনে থাকাকালে মরিয়মকে মাঝে মাঝে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতে হতো। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর […]

নাতনি বলে পরিচয়, পরে বিয়ে; ন্যাম ভবনের বারান্দায়ও ঘুমাতেন মরিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য আদালতে তুলে ধরেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, নজরুল ইসলাম প্রথমে মরিয়মকে নাতনি হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে তাকে বিয়ে করেন। এমনকি ন্যাম ভবনে থাকাকালে মরিয়মকে মাঝে মাঝে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় ঘুমাতে হতো।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম। এদিন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আদালতে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ তার আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগ্নে। মরিয়মকে তিনি নাতনি হিসেবে উল্লেখ করতেন। ঢাকায় এলে নজরুল ইসলাম ওই ব্যক্তির বাসায় থাকতেন এবং সেখান থেকেই সংসদীয় কাজ পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তারা বিয়ে করেন।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন নজরুল ইসলাম ধর্মীয় নিয়মে মরিয়মকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন। পরে নিজ এলাকায় তাদের বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, নজরুল ইসলাম, মরিয়ম ও মামলার আরেক আসামি মাকছুদা ইসলাম ন্যাম ভবনে থাকতেন। সেখানে মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুল ইসলামের শয়নকক্ষের পাশের বেলকনিতে ঘুমাতেন।

মামলার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে নজরুল ইসলামের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান তার জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, থানা পুলিশ ও পরে ডিবি পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। এ কারণে তিনি জামিনের আবেদন করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার পরদিন আদালত নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। পরে মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রথম দফার রিমান্ড শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হলো।

এর আগে গত ২০ জুলাই ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন। পরে নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

এরপর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ