বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বার্ধক্যের গতি অনেকটাই ধীর করা সম্ভব বলে মনে করেন পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ত্বকের তারুণ্য, কোলাজেন উৎপাদন এবং শরীরের কোষকে সুস্থ রাখতে বাহ্যিক প্রসাধনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদিনের খাবার। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দ্রুত বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন […]
বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বার্ধক্যের গতি অনেকটাই ধীর করা সম্ভব বলে মনে করেন পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ত্বকের তারুণ্য, কোলাজেন উৎপাদন এবং শরীরের কোষকে সুস্থ রাখতে বাহ্যিক প্রসাধনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদিনের খাবার।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দ্রুত বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ কিছু খাবার এই ক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ব্রকলিকে পুষ্টির পাওয়ার হাউস বলা হয়। এতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বককে টানটান ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম ও লুটেন মস্তিষ্ক ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
লাল ক্যাপসিকামে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
পালংশাক শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা ভিটামিন এ, সি, ই, কে এবং আয়রন কোষের ক্ষয় কমায় এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
মিষ্টি আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। এটি ত্বকের নমনীয়তা বাড়ায় এবং নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে।
অ্যাভোকাডো স্বাস্থ্যকর চর্বির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন এনজাইম হজমশক্তি উন্নত করে। পাশাপাশি এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং বয়সজনিত কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
কাঠবাদাম ও আখরোটে রয়েছে ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং কোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
ডালিমে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয় কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি পেশির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং বয়সজনিত দুর্বলতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার শরীরে প্রদাহ ও কোষের ক্ষয় বাড়িয়ে দ্রুত বার্ধক্যের কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি করে, যা ত্বকের ক্ষতি ও বলিরেখা বাড়ায়।
চিনি কোলাজেন ও ইলাস্টিন নষ্ট করে ত্বককে দ্রুত ঝুলে পড়তে সাহায্য করে। ট্রান্সফ্যাটযুক্ত ডালডাও ত্বক ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত সোডিয়াম ও সংরক্ষণকারী উপাদানসমৃদ্ধ মাংস শরীরকে পানিশূন্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
এসব পানীয় শরীরের পানি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি কমিয়ে দেয়, ফলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
তারুণ্য ধরে রাখতে কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণ ফল, শাকসবজি, বাদাম ও প্রাকৃতিক খাবার রাখলে এবং প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কম খেলে দীর্ঘ সময় সুস্থ ও সতেজ থাকা সম্ভব।
সূত্র: হেলথলাইন ও গুড ফুড