লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরে প্রবেশ করা বিভিন্ন উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ সরাতে ভূমিকা রাখা, পিত্তরস তৈরি এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়াসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গ। তাই লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেশি চিনি এবং […]
প্রতীকী ছবি
লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরে প্রবেশ করা বিভিন্ন উপাদান প্রক্রিয়াজাত করা, রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ সরাতে ভূমিকা রাখা, পিত্তরস তৈরি এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়াসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গ। তাই লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
অ্যালকোহল, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেশি চিনি এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর খাবার, পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কোনো একটি খাবার লিভারকে সরাসরি ‘ডিটক্স’ বা পুরোপুরি পরিষ্কার করে দেয়—এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সামগ্রিকভাবে সুষম খাদ্যাভ্যাসই লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক।
রসুন
রসুনে সালফারযুক্ত বিভিন্ন যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত রসুন খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে এবং শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে।
সাইট্রাস ফল
কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো ফলে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত ফল খাওয়া সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ব্রোকলি ও অন্যান্য সবজি
ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য ক্রুসিফেরাস সবজিতে ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নিয়মিত শাক-সবজি খাওয়া লিভারসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
হলুদ
হলুদে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ রয়েছে, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে হলুদ বা কারকিউমিনকে কোনো লিভার রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
আখরোট
আখরোটে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত বাদাম খাওয়া সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
বিটরুট
বিটে ফাইবার, ফোলেট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। অন্যান্য সবজির মতো এটি নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
গাজর
গাজরে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। শাক-সবজি ও বিভিন্ন রঙের ফলমূল নিয়মিত খাওয়া শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে ক্যাটেচিনসহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে সাধারণ গ্রিন টি এবং উচ্চমাত্রার গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট এক বিষয় নয়। বেশি ঘনত্বের গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্টের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনা দেখা গেছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।
আপেল
আপেলে ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন রয়েছে। ফাইবার হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত ফল রাখা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে এটি সুষম খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বিকে খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।
লিভার সুস্থ রাখতে কোনো একটি ‘বিশেষ’ খাবারের ওপর নির্ভর করার চেয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার কমানো, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাটি লিভার থাকলে ওজন ধীরে ধীরে কমানো লিভারের চর্বি ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অ্যালকোহলও লিভারের ক্ষতির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে লিভারের রোগ থাকলে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা সীমিত করা জরুরি। সিরোসিস থাকলে সম্পূর্ণভাবে অ্যালকোহল বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নিজের ইচ্ছায় বিভিন্ন ভেষজ বা খাদ্য-সাপ্লিমেন্ট খাওয়াও নিরাপদ নয়। কিছু সাপ্লিমেন্ট উল্টো লিভারের ক্ষতি করতে পারে। লিভারে কোনো সমস্যা, অস্বাভাবিক লিভার এনজাইম বা অন্য কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা উচিত।
সব মিলিয়ে লিভার সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো সুষম খাবার, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং লিভারের জন্য ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা। একটি নির্দিষ্ট খাবার নয়, প্রতিদিনের সামগ্রিক জীবনযাপনই লিভারের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে।
সূত্র: এনআইডিডিকে, আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশন