সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৩:৩৩ পিএম, ২৬ জুন ২০২৬

তারেক রহমান-শি জিনপিং বৈঠক: বাংলাদেশে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করবে চীন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে বেইজিং সরে আসবে না। তিনি বলেন, চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশ […]

তারেক রহমান-শি জিনপিং বৈঠক: বাংলাদেশে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করবে চীন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থেকে বেইজিং সরে আসবে না। তিনি বলেন, চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

শুক্রবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশ নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায় গঠনের ঘোষণা দেয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, চীন তার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে বেইজিং।

শি জিনপিং আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর করতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কৌশলগত সংলাপ জোরদার এবং শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

তিনি জানান, বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা, উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় এবং ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী বেইজিং।

চীনের প্রেসিডেন্ট স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিনিময় কর্মসূচি জোরদারের পাশাপাশি চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে শি জিনপিং বলেন, দুই দেশ সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে যৌথভাবে কাজ করবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানান এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন যুগের অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন সম্প্রদায়ে উন্নীত করাকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশ অর্থনীতি, বাণিজ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, সংযোগ, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে চায়।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি অনুসরণ করে, তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে।

বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ