সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৫৮ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬

তীব্র দাবদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের প্রধান নদীগুলো, বড় সংকটের আশঙ্কা

প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘদিনের বৃষ্টির ঘাটতিতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, উপগ্রহচিত্রেও নদীগুলোর সংকুচিত প্রবাহ ও বিস্তীর্ণ শুকনো তলদেশ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, একসময় প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হওয়া নদীগুলোর অনেক অংশ এখন […]

তীব্র দাবদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের প্রধান নদীগুলো, বড় সংকটের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘদিনের বৃষ্টির ঘাটতিতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, উপগ্রহচিত্রেও নদীগুলোর সংকুচিত প্রবাহ ও বিস্তীর্ণ শুকনো তলদেশ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, একসময় প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হওয়া নদীগুলোর অনেক অংশ এখন শুকিয়ে গিয়ে বিশাল বালুচরে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের একই সময়ের চিত্রের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা সহজেই বোঝা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশে পরিণত হয়েছে। একের পর এক তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে নদী ও মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব শুধু পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের নদীগুলো পণ্য পরিবহন, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণ, পর্যটন এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে পানির স্তর কমে যাওয়ায় অর্থনীতি ও পরিবেশ—উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে।

সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে ইউরোপের অন্যতম প্রধান দুই নদী দানিউব ও রাইন। হাঙ্গেরিতে দানিউব নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। সংবাদ সংস্থা এপি জানায়, গত সোমবার বুদাপেস্টে নদীর পানির স্তর মাত্র ৪ ইঞ্চিতে নেমে আসে, যা ২০১৮ সালের আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডেরও নিচে।

আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে নদীর পানির স্তর আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দানিউব নদীতে পানির ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যেই হাঙ্গেরির জ্বালানি খাতে পড়েছে। দেশটির পাকস (Paks) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা জাতীয় বিদ্যুতের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করে, পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় এখন মাত্র ১০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। একটি ছাড়া বাকি সব চুল্লি বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পুরো কেন্দ্রটিই সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে রোমানিয়াতেও। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দানিউব নদীর প্রবাহ সচল রাখতে এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাতে বিশেষ প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে দেশটিকে। এমনকি নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের জন্য বিস্ফোরক ব্যবহার এবং অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

পানি কমে যাওয়ার কারণে ইউরোপের নদীপথে পর্যটনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি রিভার ক্রুজ বাতিল করতে হয়েছে। বুলগেরিয়ায় একটি ক্রুজ জাহাজ বালুচরে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে শুকিয়ে যাওয়া নদীর তলদেশ থেকে উঠে আসছে বহু পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। সম্প্রতি বুলগেরিয়ায় একটি প্রাচীন ম্যামথের দেহাবশেষ এবং সার্বিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি ডুবন্ত নাৎসি যুদ্ধজাহাজের অংশ নদীর তলদেশ থেকে দৃশ্যমান হয়েছে।

এদিকে সুইজারল্যান্ড থেকে উৎপন্ন রাইন নদীতেও পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। খাদ্যপণ্য, কয়লা, তেল ও খনিজ পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই নৌপথে এখন বড় জাহাজগুলো পূর্ণ ধারণক্ষমতায় চলাচল করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য কমিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

জার্মানির বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নদীপথের পরিবর্তে রেল ও সড়কপথে পণ্য পরিবহন শুরু করেছে। কারণ অনেক বন্দরে কম পানির কারণে বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না।

বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইউরোপের নদীগুলোতে আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দেবে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী রিচার্ড অ্যালান বলেন, বর্তমানে যা দেখা যাচ্ছে, সেটি আরও বড় সংকটের কেবল শুরু। তার মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন দ্রুত কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স ও এপি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ