সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:১৭ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ইতি টানা হলো। থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর পর থেকে নতুন করে কোনো গোলাগুলির […]

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ইতি টানা হলো।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এর পর থেকে নতুন করে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

একই তথ্য দিয়েছে কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও। তবে তারা জানায়, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগে শনিবার ভোরে থাই বিমান বাহিনীর একটি হামলার ঘটনা ঘটে।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্কফানিত ও কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তিয়া সেইহা স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মধ্য দিয়ে টানা ২০ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটে। এ সময়ে অন্তত ১০১ জন নিহত হন এবং দুই দেশের মিলিত হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান, রকেট হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণ ব্যবহৃত হয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হলেও তা ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, উভয় পক্ষই বর্তমান সেনা মোতায়েন অবস্থান বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে এবং সীমান্তে কোনো ধরনের অগ্রসর কার্যক্রম চালানো হবে না।

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, অতিরিক্ত সেনা সমাবেশ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে। কম্বোডিয়া সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী রোববার ও সোমবার চীনের ইউনান প্রদেশে বৈঠকে বসবেন কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সিহাসাক ফুয়াংকেট। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্তের বিভিন্ন অনির্ধারিত অংশ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধ মাঝেমধ্যে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্কফানিত জানান, নতুন যুদ্ধবিরতি আসিয়ান জোটের পর্যবেক্ষক দল এবং দুই দেশের সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে নীতিগত পর্যায়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

কুয়ালালামপুরে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক এবং সীমান্ত চেকপোস্টে টানা তিন দিনের আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়। শনিবার সেখানে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা সরাসরি বৈঠক করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় বাস্তুচ্যুত বেসামরিকদের নিজ নিজ এলাকায় ফেরার বিষয়েও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এছাড়া যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকলে, জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর থেকে থাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে ফেরত দেওয়া হবে।

তবে এই চুক্তি চলমান সীমান্ত নির্ধারণ কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার সমাধান আগের মতোই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

থাইল্যান্ডের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল প্রাপাস সর্নজাইদি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘর্ষ কোনো দেশের জন্যই কল্যাণকর নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, থাই ও কম্বোডীয় জনগণ পরস্পরের শত্রু নয়।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ