সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাণিজ্য
৪:০৬ পিএম, ২ জুলাই ২০২৬

থাই সৌন্দর্যবাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি প্রসাধনীর উপস্থিতি

একসময় বাংলাদেশের কসমেটিকস বাজারে থাইল্যান্ডে উৎপাদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন উল্টো থাইল্যান্ডের ভোক্তাদের সৌন্দর্যচর্চার অংশ হয়ে উঠছে বাংলাদেশে উৎপাদিত স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য। বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের প্রসাধনী বর্তমানে থাইল্যান্ডের […]

থাই সৌন্দর্যবাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি প্রসাধনীর উপস্থিতি

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

একসময় বাংলাদেশের কসমেটিকস বাজারে থাইল্যান্ডে উৎপাদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন উল্টো থাইল্যান্ডের ভোক্তাদের সৌন্দর্যচর্চার অংশ হয়ে উঠছে বাংলাদেশে উৎপাদিত স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস পণ্য।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের প্রসাধনী বর্তমানে থাইল্যান্ডের স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শুধু প্রচলিত খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রই নয়, দেশটির জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফার্মেসি চেইনেও এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম লাজাদা থাইল্যান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য এখন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

থাইল্যান্ডের স্থানীয় পরিবেশক ও আমদানিকারকদের মাধ্যমে বাংলাদেশি স্কিন কেয়ার এবং কালার কসমেটিকস পণ্য দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। থাই ভোক্তাদের মধ্যে বিশেষ করে প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ এবং ত্বকবান্ধব পণ্যের প্রতি আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

থাইল্যান্ডভিত্তিক পরিবেশকদের মতে, পণ্যের গুণগত মান, কার্যকারিতা এবং তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক মূল্য বাংলাদেশি কসমেটিকসকে দেশটির ভোক্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলছে। বর্তমানে বিজ্ঞানভিত্তিক স্কিন কেয়ার পণ্যের চাহিদা থাইল্যান্ডে দ্রুত বাড়ছে এবং এটি দেশটির সৌন্দর্য শিল্পের অন্যতম বড় প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত এক দশকে বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের কাঁচামাল, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং উন্নত প্যাকেজিং ব্যবস্থার কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছে।

এই অগ্রগতির ফলে দেশের কসমেটিকস শিল্প একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে, অন্যদিকে নতুন রপ্তানি বাজারও তৈরি করছে। হালাল সার্টিফিকেশন, জিএমপি সনদ এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিগুলোও এ খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রার অন্যতম অংশীদার রিমার্ক এইচবি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত নিওর, সিওডিল ও লিলি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন স্কিন কেয়ার ও কালার কসমেটিকস পণ্য বর্তমানে থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।

সিওডিল ব্র্যান্ডের পরিচালক সুকান্ত কুমার দাস বলেন, থাইল্যান্ডে রিমার্কের স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস পণ্যের প্রতি ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশে এখন বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে থাইল্যান্ড ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত কসমেটিকস ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বিউটি ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশের (এএসবিএমইবি) সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দীন বলেন, থাইল্যান্ডের মতো পরিণত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত স্কিন কেয়ার ও কসমেটিকস পণ্যের প্রবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা। এটি দেশের উৎপাদন সক্ষমতা, গবেষণা কার্যক্রম এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারলে এ খাতের রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব আলী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাকনির্ভর। কসমেটিকস ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের মতো উচ্চ মূল্যসংযোজনকারী শিল্পের বিকাশ রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। থাইল্যান্ডের মতো বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি দেশের ব্র্যান্ড ইমেজকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববাজারে কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্যের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের নীতিগত সহায়তা, রপ্তানি প্রণোদনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা দরকার।

তবে খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কসমেটিকসের চাহিদা বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরে ভ্যাট ও করনীতিসহ বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা এবং বৈষম্যের কারণে শিল্পটির বিকাশ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।

তাদের মতে, সম্ভাবনাময় এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভ্যাট কাঠামো সংস্কার, রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্ববাজারে কসমেটিকস ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা পণ্যের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য এটি নতুন রপ্তানি সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্প দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ