Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাণিজ্য
২:২২ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬

৮২২ কোটি টাকার ভোজ্যতেল ও ডাল কেনার অনুমোদন দিল সরকার

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মোট ৮২২ কোটি ৩১ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন […]

৮২২ কোটি টাকার ভোজ্যতেল ও ডাল কেনার অনুমোদন দিল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে মোট ৮২২ কোটি ৩১ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এদিন মোট ২৩টি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে খাদ্যপণ্য আমদানির পাশাপাশি সার সংগ্রহ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মৎস্যসম্পদ অনুসন্ধান এবং যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

টিসিবির জন্য অনুমোদিত খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে চার কোটি লিটার ভোজ্যতেল এবং ২২ হাজার ৫০০ টন মসুর ডাল। সরকার এসব পণ্য ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির কার্ডধারী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে বিক্রি করবে।

মসুর ডাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই উৎস থেকেই কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার টন মসুর ডাল সরবরাহ করবে চট্টগ্রামের পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলস। প্রতি কেজি ডালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা, যার মোট মূল্য দাঁড়াবে ৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের আওতায় আরও ১২ হাজার ৫০০ টন মসুর ডাল আমদানি করা হবে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডের কাছ থেকে। প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৫৯ মার্কিন ডলার। পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ টিসিবির গুদামে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি ডালের খরচ হবে ৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা। এই চালানে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজার থেকে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকার শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন কেনা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি লিটার তেলের গড় মূল্য দাঁড়াবে ১৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হবে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের খরচ হবে ১৬৪ টাকা ৭৭ পয়সা।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিতভাবে টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোজ্যতেল ও ডালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ