প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা, বিদ্যমান সমস্যা এবং সীমাবদ্ধতার কারণে দায়িত্ব পালন সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন (সাংবাদিক) তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, উনি মানুষের […]
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা, বিদ্যমান সমস্যা এবং সীমাবদ্ধতার কারণে দায়িত্ব পালন সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন (সাংবাদিক) তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন, উনি মানুষের চোখে-মুখে খুশি দেখেছেন। আমার মনে হয় একই জিনিস মনে হয় আমিও দেখেছি। কিন্তু তার পরেও অবশ্যই দায়িত্বের একটা চাপ অনুভব করছি। কারণ, এখানে প্রচুর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাট দ্য সেইম টাইম বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সো অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি দায়িত্বে।”
তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের আশা নিয়ে নতুন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে, তবে নানা চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এ সময় নিজের বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে আমি অফিস থেকে যখন বাসায় যাচ্ছি, তখন আমার সাথে গাড়িতে যারা ছিল, তখন আমি তাদের বলছিলাম আব্বা একসময় উনার একজন সহকর্মীকে বলেছিলেন যে দিনটা যদি ৪৮ ঘণ্টা হতো তাহলে আমরা আরেকটু বেটার কাজ করতে পারতাম।”
বর্তমান ব্যস্ততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “আব্বার মতো আমি ওদিন বলছিলাম যে, দিনটা মানে কখন অফিসের ঢুকছি এবং কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, একটু বুঝতেই পারছি না। দম ফেলানোর টাইম পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আমারও মনে হয় আসলে দিন ২৪ ঘণ্টা না হয়ে যদি ৪৮ ঘণ্টা হতো তাহলে একটু ভালো হতো”।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে সরকারকে একসঙ্গে বিভিন্ন খাতে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে সময় ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
আলোচনার এক পর্যায়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। এক্সরে করলে হয়ত দেখা যাবে আমার পিঠের হাড্ডিটা এখনো বাঁকাভাবে একটু লেগে আছে। যেহেতু প্রায় অনেকদিন এটা করে ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রপার টাইমে চিকিৎসা করা হয়নি, সেজন্য হয়ত একটু বাঁকাভাবে রয়ে গিয়েছে। চার সপ্তাহর মধ্যে তিন দিনে হাড্ডি জোড়া লেগে যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এখন যদি সেজন্য কাউকে দায়ী করে বেড়াই তবে আমার তো হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনো যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। সুতরাং ক্ষতি যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে না ভেবে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে”।
গণমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয় এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে চায়।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, গঠনমূলক আলোচনা হোক।”
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না, আপনার সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারবো না যে, কাজটা ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে।”
মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।