সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

অন্যান্য
৪:১১ পিএম, ১৬ জুন ২০২৬

দিল্লিতে শপিং ব্যাগ বহনে ভাড়ায় মিলছে সহকারী

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কেনাকাটাকে আরও সহজ করতে চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী এক সেবা। ব্যস্ত বাজারে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করা ক্রেতাদের জন্য এখন ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে ব্যক্তিগত সহকারী, যাদের কাজ শুধু শপিং ব্যাগ বহন করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া। দিল্লির জনপ্রিয় লাজপত নগর মার্কেটে চালু হওয়া ‘ক্যারি-মেন’ নামের একটি স্টার্টআপ এ সেবা দিচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে […]

দিল্লিতে শপিং ব্যাগ বহনে ভাড়ায় মিলছে সহকারী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কেনাকাটাকে আরও সহজ করতে চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী এক সেবা। ব্যস্ত বাজারে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করা ক্রেতাদের জন্য এখন ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে ব্যক্তিগত সহকারী, যাদের কাজ শুধু শপিং ব্যাগ বহন করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

দিল্লির জনপ্রিয় লাজপত নগর মার্কেটে চালু হওয়া ‘ক্যারি-মেন’ নামের একটি স্টার্টআপ এ সেবা দিচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে নারী ও পুরুষ উভয় সহকারী ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারা সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা পর্যন্ত ক্রেতাদের সঙ্গে থেকে কেনাকাটার সময় সহায়তা করেন।

প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, প্রথম ৩০ মিনিটের জন্য খরচ ৭৯ রুপি। আর এক ঘণ্টার জন্য গুনতে হয় ১৪৯ রুপি। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচও বাড়ে।

সেবাটি চালুর পর অনেক ক্রেতাই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাজারে দীর্ঘ সময় কেনাকাটার সময় ভারী ব্যাগ বহনের ঝামেলা কমিয়ে দিয়েছে ‘ক্যারি-মেন’। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা একা কেনাকাটা করতে আসা মানুষের জন্য এটি বেশ উপকারী হয়ে উঠেছে।

‘ক্যারি-মেন’-এর প্রতিষ্ঠাতা রিতু কান্দারি শ্রীবাস্তব ও কনিষ্কা মালহোত্রা জানান, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এ উদ্যোগের ধারণা আসে। গত বছর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লাজপত নগরে কেনাকাটা করতে গিয়ে তারা একদিকে শপিং ব্যাগ, অন্যদিকে শিশুদের দেখাশোনা করতে হিমশিম খেয়েছিলেন। একই সময়ে এক বৃদ্ধাকেও ব্যাগ বহন করতে কষ্ট করতে দেখে তাদের মনে হয়, অর্থের বিনিময়ে এমন সহায়তা দেওয়া হলে অনেকের উপকার হবে।

এরপর দুই বন্ধু পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি বাজারে একটি বুথ স্থাপন করেন। শুরুতে পাঁচজন যুবককে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে আরও দুজন নারী কর্মী যুক্ত করা হয়। এক মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করেন।

তবে উদ্যোগটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, এই ধরনের সেবা কি মধ্যবিত্তদের অতিরিক্ত সুবিধাভোগী করে তুলছে? কেউ কেউ আবার একে আধুনিক যুগের ‘কুলি ব্যবস্থা’র সঙ্গে তুলনা করছেন।

অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের দাবি, এটি কোনো শোষণমূলক কাজ নয়; বরং একটি পেশাদার সেবা, যা কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তারা বলছেন, মানুষের জীবনযাত্রা বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নতুন ধরনের সেবার চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘ক্যারি-মেন’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ এটিকে সময়োপযোগী ব্যবসায়িক উদ্ভাবন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বিতর্কের মধ্যেও দিল্লির ব্যস্ত বাজারে সেবাটির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ