বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশে এক রহস্যময় আলোর দেখা মিলেছে। কক্সবাজার, মাদারীপুরসহ একাধিক অঞ্চল থেকে অদ্ভুত আলোকরশ্মি দেখতে পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকায় হঠাৎ আকাশে উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ড […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশে এক রহস্যময় আলোর দেখা মিলেছে। কক্সবাজার, মাদারীপুরসহ একাধিক অঞ্চল থেকে অদ্ভুত আলোকরশ্মি দেখতে পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকায় হঠাৎ আকাশে উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ড থেকে প্রায় এক মিনিট পর্যন্ত দৃশ্যটি স্থায়ী ছিল বলে জানান স্থানীয়রা। অনেকেই ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হোছাইন মোহাম্মদ মিশুক বলেন, তারা সৈকতে বসে থাকার সময় হঠাৎ আকাশে ভিন্নধর্মী আলো দেখতে পান। পরে সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
একই সময়ে মাদারীপুর শহর, মোস্তফাপুর ও শিবচর এলাকাতেও একই ধরনের আলো দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কেউ কেউ এটিকে উল্কাপাত, আবার কেউ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আলোকচ্ছটা বলে ধারণা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টিকে ‘ইউএফও’ বা ভিনগ্রহের যান বলেও আলোচনা করছেন।
শিবচরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ আকাশে অস্বাভাবিক আলো দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিট ধরে আকাশে আলোর বিচরণ দেখা যায়।
এ বিষয়ে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি আবহাওয়াজনিত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারতের উড়িষ্যা উপকূল বা জলসীমা থেকে পরিচালিত কোনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রভাব হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরে পৌঁছালে জ্বালানির দহন এবং সূর্যাস্ত-পরবর্তী আলোর প্রতিফলনের কারণে আকাশে এ ধরনের উজ্জ্বল রেখা দেখা যেতে পারে। এর আগেও ভারতের ‘অগ্নি’ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আকাশে অনুরূপ আলোকচ্ছটা দেখা গিয়েছিল।